মমতার হারে শিক্ষা? ভোট শুরুর আগেই আইপ্যাককে ঝেঁটে বিদায় করলেন অখিলেশ!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রেশ এবার আছড়ে পড়ল উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় কেবল তৃণমূলের দুর্গেই ফাটল ধরায়নি, বড়সড় ঝটকা দিয়েছে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) অন্দরমহলেও। ডিসেম্বরে উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার কথা, কিন্তু তার অনেক আগেই রণকৌশল আমূল বদলে ফেললেন অখিলেশ যাদব। খ্যাতনামা নির্বাচনী কুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর (I-PAC) সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করল সমাজবাদী পার্টি।
কেন সরলেন অখিলেশ? নেপথ্যে কি কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয়?
২০২৭ সালের নির্বাচন অখিলেশ যাদবের কাছে রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আর এই লড়াইয়ে জিততে প্রশান্ত কিশোরের মস্তিষ্কপ্রসূত সংস্থা আইপ্যাক-কে চুক্তিবদ্ধ করেছিল এসপি। ২০২১ সালে তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে অভাবনীয় সাফল্যের রেকর্ড থাকলেও, ২০২৬-এর সাম্প্রতিক ফলাফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে সেই জাদু। সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শেই আইপ্যাক-কে নিয়োগ করেছিলেন অখিলেশ। কিন্তু দুই রাজ্যে ভরাডুবির পর আর ঝুঁকি নিতে চাইলেন না তিনি।
তবে কেবল হারই নয়, বিচ্ছেদের নেপথ্যে রয়েছে আরও গভীর কিছু কারণ। কান পাতলে শোনা যাচ্ছে ‘ইডি’ জুজু-র কথা। পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের সময় আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত কিছু মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তৎপরতা সমাজবাদী পার্টির নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল। উত্তর প্রদেশের মহারণের আগে কোনোভাবেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির নজরে আসতে চাইছেন না অখিলেশ। গোপন নথি বা নির্বাচনী কৌশল ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আড়াই মাসের মাথাতেই চুক্তি বাতিলের কড়া সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
স্থানীয় আবেগ বনাম পেশাদার কৌশল
আইপ্যাক-এর বিরুদ্ধে সমাজবাদী পার্টির অন্দরে আরও একটি অভিযোগ ছিল। দলের একাংশের মতে, সংস্থাটির একটি বড় অংশ রাজ্যের বাইরে থেকে কাজ করছিল। ফলে উত্তর প্রদেশের স্থানীয় রাজনীতির নাড়ি টিপে বুঝতে তারা ব্যর্থ হচ্ছিল। মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে এই ‘আউটসাইডার’ পেশাদারদের দূরত্ব দলের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন শীর্ষ নেতারা।
এখন কার হাতে সমাজবাদী পার্টির হাল?
আইপ্যাক বিদায় নিলেও নির্বাচনী প্রচারের ময়দান থেকে পিছিয়ে আসছে না এসপি। বর্তমানে ‘শো টাইম’ নামক একটি সংস্থা ডিজিটাল প্রচার ও সোশ্যাল মিডিয়া সামলাচ্ছে। আইপ্যাক চলে যাওয়ায় এই সংস্থার দায়িত্ব আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এবার বাইরের কোনো বড় সংস্থার চেয়ে নিজের সংগঠন এবং স্থানীয় নেতাদের ওপর বেশি ভরসা করতে চাইছেন অখিলেশ যাদব। বুথ স্তরের তথ্য সংগ্রহ এবং মাইক্রো-টার্গেটিংয়ের জন্য ছোট ছোট দলকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
নির্বাচনের আগে এই বড় রদবদল সমাজবাদী পার্টিকে কতটা অক্সিজেন দেয়, নাকি রণকৌশলের এই পরিবর্তন বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়— এখন সেটাই দেখার। তবে অখিলেশের এই পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিল, লড়াই জেতার জন্য তিনি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সাবধানী।