স্ত্রী পান দেড় লাখ বেতন, স্বামী বেকার! খোরপোশ বৃদ্ধির আবেদন শুনতেই কড়া ধমক হাইকোর্টের, জানুন অবাক করা রায়

বিবাহবিচ্ছেদের পর খোরপোশ নিয়ে আইনি লড়াই নতুন কিছু নয়। কিন্তু কর্ণাটক হাইকোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায় সমাজ এবং আইন— দুই ক্ষেত্রেই চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের খোরপোশ বাড়ানোর দাবি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক স্ত্রী। কিন্তু তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে উচ্চ আদালত স্পষ্ট জানাল, যেখানে স্ত্রী নিজে মোটা অঙ্কের বেতন পান এবং স্বামী বর্তমানে বেকার, সেখানে খোরপোশ বৃদ্ধির কোনও যৌক্তিকতা নেই।

স্বামীর ‘শূন্য’ পকেট, স্ত্রীর রোজগার দেড় লাখ!
২০০৯ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির অশান্তি শুরু হয় বিয়ের ঠিক পরেই। স্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, একটি ওমনি গাড়ির দাবিতে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হয়েছিল। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে উঠে এসেছে এক অবাক করা আর্থিক বৈষম্য। স্বামীর আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেলের একটি স্কুল ছিল যা বর্তমানে বন্ধ। ফলে তিনি এখন পুরোপুরি বেকার। অন্যদিকে, নথিপত্র অনুযায়ী স্ত্রী প্রতি মাসে দেড় লক্ষ টাকার বেশি রোজগার করেন।

পৈতৃক সম্পত্তির দাবি ধোপে টিকল না
স্ত্রীর আইনজীবীর প্রধান যুক্তি ছিল, স্বামীর পৈতৃক সম্পত্তিতে অংশ রয়েছে এবং তিনি প্রচুর সম্পদের মালিক। কিন্তু কর্ণাটক হাইকোর্ট মামলার গভীরতা খতিয়ে দেখে জানায়, পৈতৃক সম্পত্তিতে স্বামীর সঠিক অংশ ঠিক কতখানি, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। ফলে এই কাল্পনিক সম্পত্তির ওপর ভিত্তি করে খোরপোশ বাড়ানোর দাবি করা আইনত ভুল। আদালত আরও লক্ষ্য করেছে যে, স্ত্রী তাঁর আইনি লড়াইয়ের জন্য একাই বিশাল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করার ক্ষমতা রাখেন।

পুরোনো নির্দেশে অনড় আদালত
এর আগে নিম্ন আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে, স্বামীকে প্রতি মাসে ৪,০০০ টাকা ভরণপোষণ এবং ৫,০০০ টাকা ঘরভাড়া হিসেবে দিতে হবে। সেই সঙ্গে ৪০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশও ছিল। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এবং খোরপোশ বৃদ্ধির আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে রিভিশন পিটিশন দাখিল করেছিলেন স্ত্রী।

হাইকোর্ট সাফ জানিয়েছে, যেহেতু দম্পতির কোনও সন্তান নেই এবং স্ত্রী আর্থিকভাবে অত্যন্ত সচ্ছল, তাই বেকার স্বামীর ওপর বাড়তি খোরপোশের বোঝা চাপানোর কোনও প্রশ্নই ওঠে না। নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে স্ত্রীর আবেদন খারিজ করে দেয় বিচারপতিদের বেঞ্চ।

বেকার হলেও কি মুক্তি আছে?
আদালত একটি বিষয়ে স্বামীকে সতর্ক করেছে। স্বামী দাবি করেছিলেন যে তিনি খোরপোশ দেওয়ার অবস্থায় নেই, যদিও ব্যাংক থেকে নিজের জমি বন্ধক রেখে তিনি ৪.৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ— ৪.৫ লক্ষ টাকা জোগাড় করার ক্ষমতা যাঁর আছে, তিনি খোরপোশ দিতে পারবেন না, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। অর্থাৎ, খোরপোশ বাড়বে না ঠিকই, কিন্তু আদালত আগে যে ৫,০০০ বা ৪,০০০ টাকার নির্দেশ দিয়েছিল, তা স্বামীকে অবশ্যই মিটিয়ে দিতে হবে।