ভোটের ফল বেরোতেই রণক্ষেত্র বাংলা! দুই খুনের পর এবার ‘সরাসরি একশন’-এর নির্দেশ কমিশনের

ফলাফল ঘোষণা হতেই কি তবে বদলার রাজনীতি শুরু হলো বাংলায়? ভোট মিটতে না মিটতেই ফের অশান্তির আগুনে পুড়ছে রাজ্যের একাধিক জেলা। মঙ্গলবার দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষ, রাজনৈতিক কার্যালয় ভাঙচুর এবং জোড়া খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল পরিস্থিতি। ভোট-পরবর্তী এই ভয়াবহ হিংসা রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—অশান্তি মোকাবিলায় এবার নেওয়া হবে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি।

জোড়া খুনে উত্তপ্ত নানুর ও নিউটাউন
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর আসতে শুরু করে। মঙ্গলবার বীরভূমের নানুরে এক তৃণমূল কর্মী এবং কলকাতার নিউটাউনে এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। এই দুই মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শুধু প্রাণহানি নয়, জয়ী প্রার্থীদের বাড়িতে হামলা এবং দলীয় কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও সামনে এসেছে।

পুলিশ ও বাহিনীর সামনেই জেসিবি দিয়ে অফিস ভাঙচুর!
কলকাতার নিউটাউন এলাকায় এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা গেল। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই ডিজে বাজিয়ে, বাজি ফাটিয়ে এবং জেসিবি মেশিন দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে একটি তৃণমূল কার্যালয়। অন্যদিকে, স্বরূপনগর বিধানসভার জয়ী তৃণমূল বিধায়ক বীণা মণ্ডলের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই চরম অরাজকতা রুখতে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

কমিশনের কড়া নির্দেশ: ‘জিরো টলারেন্স’
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার সঙ্গে বৈঠকে বসে কমিশন। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যে কোনও মূল্যে হিংসা দমন করতে হবে। কমিশনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন:

হিংসায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF)-এর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় রাখতে হবে।

এলাকায় এলাকায় পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন করে টহলদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শান্তি রক্ষায় সমন্বয়
নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, ভোটের ফল পরবর্তী পর্যায়ে কোনও ভাবেই যেন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। যে কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই যেন প্রশাসন নির্ণায়ক পদক্ষেপ নেয়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নতুন করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে কমিশনের।