ভোট জিততেই মেজাজ বদলে গেল দিলীপের! মিষ্টি হাতে সটান থানায় হাজির, কী করলেন সেখানে?

রাজনীতির ময়দানে তিনি বরাবরই ‘আনপ্রেডিক্টেবল’। কখনো মেজাজি মেঠো বক্তৃতা, আবার কখনো ভোরবেলা প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে চায়ের আড্ডায় ঝড় তোলা—দিলীপ ঘোষ মানেই সংবাদ শিরোনাম। খড়গপুর সদরের প্রেস্টিজ ফাইটে বিরাট জয়ের পর, ফের একবার নিজের চেনা মেজাজে ধরা দিলেন বিজেপি নেতা। তবে এবার রণংদেহি মূর্তিতে নয়, একেবারে মিষ্টির বাক্স হাতে সটান হাজির হয়ে গেলেন থানায়!
থানায় কেন গেলেন দিলীপ ঘোষ?
ভোট মিটেছে, ফলও বেরিয়েছে। খড়গপুর সদরে পদ্ম ফুটিয়ে প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। জয়ের পর গেরুয়া আবিরে মেখে বিজয় উৎসব সেরেছেন অনুগামীদের সঙ্গে। কিন্তু বুধবার সকালে সবাইকে চমকে দিয়ে নিউটাউনের ইকো পার্ক থানায় পৌঁছে যান তিনি। সঙ্গে ছিল স্ত্রী রিঙ্কু ঘোষ এবং মিষ্টির বাক্স। ডিউটিতে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের হাতে নিজের জয়ের মিষ্টি তুলে দেন তিনি।
আসলে, দিলীপ ঘোষ মানেই নিয়মানুবর্তিতা। প্রচারের চাপে মাঝখানে কয়েক দিন প্রাতঃভ্রমণের রুটিনে সামান্য বদল এলেও, ফল বেরোতেই ফের পুরনো অভ্যাসে ফিরেছেন তিনি। আর সেই অভ্যাসের সূত্র ধরেই এদিন পুলিশকর্মীদের সঙ্গে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিলেন মেদিনীপুরের এই দাপুটে নেতা।
আরএসএস প্রচারক থেকে বিধানসভা: ২২ বছরের সফর
দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক জীবন কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নয়। ১৯৮৪ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে আরএসএস-এর প্রচারক হিসেবে জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। সঙ্ঘের আদর্শ বুকে নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেরিয়েছেন। সেই ‘জিরো’ থেকে শুরু করে আজ তিনি বাংলার রাজনীতির অন্যতম মহীরুহ। ২০১৪ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখার পর থেকে একের পর এক লড়াইয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
নিজের শর্তে বাঁচা ‘দিলীপ দা’
খড়গপুর সদর এবার বিজেপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে নিচুতলার কর্মী—সবারই ভরসা ছিল দিলীপের ওপর। আর সেই আস্থার মর্যাদা দিয়ে ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে এনেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষের এই সাফল্যের মূল মন্ত্র হলো তাঁর সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা এবং অবিচল আত্মবিশ্বাস। থানায় মিষ্টি বিলি করার এই ঘটনাটিও তাঁর সেই জনসংযোগেরই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।