ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্তে তোলপাড় বিশ্ব! হরমুজ প্রণালীতে আটকে কয়েকশো জাহাজ, যুদ্ধের দোরগোড়ায় মধ্যপ্রাচ্য?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) দাবি অনুযায়ী, ইরান থেকে ছোঁড়া ১৫টি মিসাইল এবং ৪টি ড্রোন তাদের অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি হামলা নয়, বরং এক বিশাল ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের অশনি সংকেত।
হাই অ্যালার্টে উপসাগরীয় দেশগুলো:
এই ঘটনার পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব এবং কাতারের মতো দেশগুলো তাদের সামরিক বাহিনীকে হাই অ্যালার্টে রেখেছে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পাল্টা হামলার আশঙ্কায় সামরিক তৎপরতা তুঙ্গে। পরিস্থিতি এখন আর কেবল কূটনীতির টেবিলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সরাসরি সামরিক প্রস্তুতির দিকেই এগোচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য।
হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক স্থবিরতা:
বিশ্বের প্রধান তেল সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালী এখন আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু। সংঘাতের জেরে কয়েকশো পণ্যবাহী জাহাজ এই এলাকায় আটকে পড়েছে। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৩,০০০ নাবিক এখন সমুদ্রের মাঝখানে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। একটি মালবাহী জাহাজে ‘অজ্ঞাত বস্তু’ দিয়ে হামলার খবর মেলায় রহস্য আরও দানা বেঁধেছে। সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্ত:
এই ডামাডোলের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎই হরমুজ প্রণালীতে চলা সামরিক অভিযান “প্রজেক্ট ফ্রিডম” স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার আবহ, অন্যদিকে অভিযানের এই আকস্মিক বিরতি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। আমেরিকা একে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ বললেও বিশ্লেষকদের ধারণা, এর পেছনে গভীর কোনো কূটনৈতিক চাপ রয়েছে।
ইরানের অস্বীকার ও হুঁশিয়ারি:
ইরান অবশ্য আমিরশাহির ওপর মিসাইল হামলার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, আমিরশাহির মাটি ব্যবহার করে যদি ইরানের ওপর কোনো হামলা চালানো হয়, তবে তার ফল হবে ভয়াবহ। এদিকে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর চিন সফর এই সংঘাতে বেজিংয়ের পরোক্ষ উপস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি ছাপিয়ে অশান্তি:
দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েল ও হেজবোল্লার মধ্যেও উত্তেজনা কমছে না। ১৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও রকেট হামলা এবং পালটা বিমান হানা জারি রয়েছে। ফলে ঘরছাড়া লক্ষ লক্ষ মানুষের মানবিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
মার্কিন আধিকারিকদের দাবি, তাঁদের প্রধান লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যে অগ্নিকুণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তাতে সামান্য একটি স্ফুলিঙ্গও বিশ্বজুড়ে ধ্বংসাত্মক দাবানল সৃষ্টি করতে পারে। এখন দেখার, বিশ্বশক্তিগুলোর কূটনৈতিক চাল এই উত্তেজনা কমাতে পারে নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।