খালি পায়ে ২৮ বছর! ৭২ বছর বয়সে কেন ফের চটি পরলেন বাসন্তীর আঙুরবালা? নেপথ্যে এক চরম অপমানের গল্প!

১৯৯৮ সাল থেকে ২০২৬— মাঝখানের এই দীর্ঘ ২৮ বছর বর্ষা হোক বা তপ্ত গ্রীষ্ম, এক মুহূর্তের জন্যও পায়ে জুতো গলাননি আঙুরবালা সাউ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর এই বাসিন্দার অপরাধ ছিল অত্যন্ত সামান্য, কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা ছিল ‘ধৃষ্টতা’। একজন সাধারণ মহিলা হয়ে বাম জমানার দাপটের মুখে দাঁড়িয়ে তিনি পদ্ম শিবিরের টিকিটে পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী হয়েছিলেন।

সেই অভিশপ্ত ১৯৯৮:
আঙুরবালা দেবীর পরিবারের দাবি, ১৯৯৮ সালে বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়ানোয় তাঁকে চরম লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছিল। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের হাতে নিগৃহীত হওয়ার পাশাপাশি জুতোপেটাও করা হয়েছিল তাঁকে। সেই দিনই এক বুক অভিমান আর জেদ নিয়ে আঙুরবালা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন— “যতদিন না এলাকায় বিজেপি ক্ষমতায় আসবে বা আমি আমার অপমানের যোগ্য জবাব পাব, ততদিন খালি পায়েই থাকব।”

৭২ বছর বয়সে জেদ পূরণ:
আজ আঙুরবালা দেবীর বয়স ৭২ বছর। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে বাসন্তী এলাকায় পদ্ম শিবিরের শক্তিবৃদ্ধি তাঁর দীর্ঘদিনের লড়াইকে পূর্ণতা দিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে তাঁর এই আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সতীর্থরা তাঁর পায়ে পরিয়ে দেন নতুন একজোড়া চটি। দীর্ঘ ২৮ বছর পর মাটির স্পর্শ ছেড়ে চটির ওপর পা রাখতেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি বৃদ্ধা।

রাজনীতির লড়াইয়ে আদর্শের জন্য কতজন কতটা ত্যাগ করতে পারেন, তা নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু বাসন্তীর আঙুরবালা সাউ প্রমাণ করে দিলেন, জেদ আর আত্মসম্মান যদি অটুট থাকে, তবে দীর্ঘ ২৮ বছরের প্রতীক্ষাও একদিন সার্থকতা পায়। তাঁর এই খালি পায়ের লড়াইয়ের সমাপ্তি আজ বাসন্তীর মানুষের মুখে মুখে ফিরছে।