‘কারও বাবার রাস্তা নয়!’ অভিষেকের নিরাপত্তা সরতেই বিস্ফোরক কালীঘাটের শিল্পীরা, কী ঘটল পটুয়াপাড়ায়?

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই আমূল বদলে যাচ্ছে ভিভিআইপি নিরাপত্তার মানচিত্র। মঙ্গলবার রাতেই লালবাজারের তরফে একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ও অফিসের সামনে মোতায়েন থাকা অতিরিক্ত পুলিশ পিকেট সরিয়ে নিতে হবে। বুধবার (৬ মে) সকাল সাড়ে ৬টা থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

কোথায় কোথায় কমছে নিরাপত্তা?
লালবাজার সূত্রে খবর, মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে পুলিশি প্রহরা তুলে নেওয়া হচ্ছে:

১৮৮এ হরিশ মুখোপাধ্যায় রোডে অভিষেকের বাসভবনের বাইরের পিকেট।

১২১ কালীঘাট রোডে তাঁর অফিস ও বাড়ির বাইরের অতিরিক্ত নিরাপত্তা।

৯ ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত অভিষেকের হাই-প্রোফাইল অফিসের বাইরের পুলিশ ক্যাম্প।

ক্ষোভ উগরে দিলেন পটুয়াপাড়ার শিল্পীরা:
কালীঘাটের যে পটুয়াপাড়ায় তৃণমূল নেত্রীর বাসভবন ও অভিষেকের কার্যালয়, সেই এলাকা এখন কার্যত গেরুয়া পতাকায় মোড়া। দীর্ঘদিনের রুদ্ধশ্বাস নিরাপত্তা থেকে মুক্তি পেয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা। তাঁদের অভিযোগ, এই হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তার চক্করে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, থমকে গিয়েছিল তাঁদের ব্যবসাও।

এক ক্ষুব্ধ শিল্পী সংবাদমাধ্যমে বলেন, “এটা কালীঘাট রোড, কারও বাবার রাস্তা নয়। এখানে কোনো গাড়ি দাঁড়াতে দেওয়া হতো না। আমরাই একদিন ওঁদের ক্ষমতায় এনেছিলাম, আর সেই নেতারাই আমাদের পেটে লাথি মারছিলেন। আজ মানুষ অতিষ্ঠ বলেই এই বদল এসেছে।”

বদলে যাওয়া সমীকরণ:
একসময় যে এলাকা পুলিশের বুটের শব্দে কাঁপত, আজ সেখানে সাধারণ মানুষের আনাগোনা বাড়ছে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে থেকে গার্ডরেল সরানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিষেকের নিরাপত্তা ছাঁটাইয়ের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ক্ষমতার অলিন্দ থেকে বিদায় নিতেই কি তবে ফিকে হচ্ছে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের দাপট? বুধবার সকালের হরিশ মুখার্জি রোডের ছবিটাই হয়তো সেই উত্তর দেবে।