ফল বেরোতেই রণক্ষেত্র বহরমপুর! তৃণমূল নেতার বাড়িতে তাণ্ডব, মহিলা থানার সামনেই চলল ভাঙচুর

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতেই নতুন করে অশান্তির আগুনে পুড়ল বহরমপুর। সোমবার রাতভর শহর ও শহর লাগোয়া পঞ্চায়েত এলাকায় চলল দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুর। একদিকে যখন গেরুয়া শিবির জয়ের উৎসবে মেতেছে, ঠিক তখনই তৃণমূল উপপ্রধানের বাড়ি ও ছাত্র পরিষদের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদে।
উপপ্রধানের বাড়িতে পেট্রোল বোমা মারার ছক?
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সন্ধ্যায়। ভাকুড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান বিপ্লব কুণ্ডুর অভিযোগ, প্রায় ১০০ জনের একটি বিজেপির বিজয় মিছিল ডিজে বাজিয়ে চুঁয়াপুর এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় অতর্কিতে তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়ির জানালার কাঁচ, দরজা থেকে শুরু করে সামনে রাখা একাধিক বাইক ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বিপ্লববাবুর দাবি, “বাড়িতে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল দুষ্কৃতীদের। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ না পৌঁছালে বড় বিপদ হতে পারত।”
থানার নাকের ডগায় তাণ্ডব:
দুষ্কৃতীদের সাহস কতখানি তা বোঝা গেল যখন বহরমপুর মহিলা থানা ও জেলা পুলিশ লাইন থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। পার্টি অফিসের চেয়ার-টেবিল ভেঙে রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হয়, ছিঁড়ে ফেলা হয় ফ্লেক্স-ব্যানার। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকারের তোপ, “পুলিশ এখনই কড়া না হলে শহর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”
বিজেপি ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বহরমপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র। তিনি সাফ জানান, “বিজেপি কর্মীরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ বা গোষ্ঠীকোন্দল থাকতে পারে, তদন্ত হলেই সব পরিষ্কার হবে।” মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার সচিন মাক্কার জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় রুট মার্চ করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
জেলায় জেলায় ধরপাকড়:
এদিকে শুধু ভাঙচুরই নয়, সোমবার রাতে নওদা ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সফিউজ্জামান শেখ ও এক পঞ্চায়েত প্রধানকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদে এবার বিজেপির ৮টি আসনে জয় আসার পর থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। একদিকে পদ্ম-শিবিরের উত্থান, অন্যদিকে শাসক শিবিরের কোন্দল ও ধরপাকড়— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটছে বহরমপুরবাসীর।