মাছ প্রেমীদের জন্য বড় সারপ্রাইজ! ইলিশ-ভেটকি ভুলে এবার পাতের দখল নেবে ‘পাবদা পাতুরি’, রইল সিক্রেট রেসিপি

ছুটির দিনের দুপুর মানেই বাঙালির পাতে মাছের জম্পেশ কোনো পদ। আর সেই মাছ যদি হয় পাবদা, তবে তো সোনায় সোহাগা! সাধারণ মাছের ঝোল বা ঝাল তো অনেক খেয়েছেন, কিন্তু পাবদা মাছের পাতুরি চেখে দেখেছেন কি? সাধারণত পাতুরি বলতে আমাদের চোখে ইলিশ বা ভেটকির ছবি ভেসে ওঠে, কিন্তু স্বাদে কোনো অংশে কম যায় না নরম তুলতুলে পাবদাও।
খুবই সামান্য উপকরণে আর নামমাত্র সময়ে কীভাবে বানাবেন জিভে জল আনা ‘পাবদা পাতুরি’, দেখে নিন তার সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
পাবদা মাছ: ৫-৬টি
কালো ও সাদা সর্ষে: ২ টেবিল চামচ করে
পোস্ত: ২ টেবিল চামচ
টক দই: ২ টেবিল চামচ (জল ঝরানো)
কোরানো নারকেল: ৩-৪ টেবিল চামচ
কাঁচালঙ্কা: ৫-৬টি
সর্ষের তেল: ৪-৫ টেবিল চামচ
হলুদ ও নুন: পরিমাণমতো
কলাপাতা: বড় মাপের ২-৩টি
প্রস্তুত প্রণালী:
ধাপ ১: প্রথমেই পাবদা মাছগুলো ভালো করে ধুয়ে সামান্য নুন ও হলুদ মাখিয়ে রাখুন।
ধাপ ২: এবার একটি মিক্সিতে বা শিলে ভেজানো সাদা-কালো সর্ষে, পোস্ত, দুটি কাঁচালঙ্কা এবং সামান্য নুন দিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন।
ধাপ ৩: একটি বড় পাত্রে ওই সর্ষে-পোস্ত বাটা, টক দই, নারকেল কোরা, সর্ষের তেল এবং পরিমাণমতো নুন দিয়ে একটি ম্যারিনেশন তৈরি করুন। এবার এই মিশ্রণে মাছগুলো দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে অন্তত ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন।
ধাপ ৪: কলাপাতাগুলো ছোট ছোট চৌকো টুকরো করে কেটে হালকা আঁচে সেঁকে নিন। এতে পাতা মোড়ানোর সময় ফেটে যাবে না। এবার প্রতিটি পাতায় একটি করে ম্যারিনেট করা মাছ রাখুন, ওপর থেকে মশলার গ্রেভি, এক চামচ সর্ষের তেল এবং একটি চেরা কাঁচালঙ্কা দিয়ে পাতাটি সুতো দিয়ে ভালো করে মুড়ে ফেলুন।
ধাপ ৫: এবার একটি নন-স্টিক চাটু বা প্যানে সামান্য তেল ব্রাশ করে নিন। আঁচ কমিয়ে কলাপাতায় মোড়া মাছগুলো এপিঠ-ওপিঠ করে ১০-১২ মিনিট ভালো করে সেঁকে নিন। পাতার রঙ গাঢ় বাদামী হয়ে এলে বুঝবেন পাতুরি তৈরি।
গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন রাজকীয় পাবদা পাতুরি। যারা ইলিশের কাঁটাকে ভয় পান, তাঁদের কাছে এই পদটি হতে পারে সেরা বিকল্প।