দেশীয় মারণাস্ত্রেই জব্দ হবে শত্রু! প্রয়াগরাজে দাঁড়িয়ে সেনাপ্রধানের ১টি ঘোষণায় কাঁপছে ড্রাগন-পাক শিবির?

ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বের দরবারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবার বড় পদক্ষেপ। প্রয়াগরাজে আয়োজিত ‘নর্থ টেক সিম্পোজিয়াম’-এ যোগ দিয়ে ভারতীয় সেনার আধুনিকীকরণ ও দেশীয় প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ভূয়সী প্রশংসা করলেন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। ‘রক্ষা ত্রিবেণী সঙ্গম’ থিমের এই অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগামী দিনে আত্মনির্ভরতাই হবে ভারতীয় সেনার মূল শক্তি।
প্রযুক্তি, শিল্প ও সৈনিকের ‘ত্রিবেণী সঙ্গম’
মঙ্গলবার প্রয়াগরাজের মাটিতে দাঁড়িয়ে সেনাপ্রধান দেখেন কীভাবে দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি একের পর এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করছে। এই সিম্পোজিয়ামের মূল লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র বাহিনী, শিল্প এবং শিক্ষাজগতের মধ্যে একটি মজবুত সেতুবন্ধন তৈরি করা। সেনাপ্রধানের মতে, দেশীয় সংস্থাগুলির এই উদ্ভাবনগুলি সেনার কার্যক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনবে।
ADGPI-এর পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে, জেনারেল দ্বিবেদী দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের এই অগ্রযাত্রায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এটি কেবল সরঞ্জামের উন্নয়ন নয়, বরং দেশের সামরিক শক্তিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।
নস্টালজিয়ায় ভাসলেন সেনাপ্রধান: ফিরে গেলেন পুরনো স্কুলে
প্রতিরক্ষার ব্যস্ততার মাঝেই এক আবেগময় মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন সেনাপ্রধান। সম্প্রতি তিনি পরিদর্শন করেন তাঁর পুরনো স্কুল— সৈনিক স্কুল রেওয়া। এখান থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের পাঠ। নিজের পুরনো স্কুল চত্বরে পা রেখে নস্টালজিক হয়ে পড়েন তিনি। স্কুলের শহীদ স্মারকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ক্যাডেটদের দেওয়া ‘গার্ড অফ অনার’ পরিদর্শন করেন তিনি।
তরুণ ক্যাডেটদের উদ্দেশে সেনাপ্রধানের বার্তা ছিল স্পষ্ট— সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের সেবা করতে হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, এই সৈনিক স্কুলগুলিই দেশের ভবিষ্যৎ নেতা তৈরির আঁতুড়ঘর। শিক্ষক ও পড়ুয়াদের প্রশংসা করে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় ঐতিহ্য ধরে রাখাটা কতটা জরুরি।
ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতে একদিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আর অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেমের জাগরণ— এই দুই মন্ত্রেই এখন এগোচ্ছে ভারতীয় সেনা।