ভোট মিটতেই সস্ত্রীক কালীঘাটে রাজ্যপাল! ধুতি-পাঞ্জাবিতে একেবারে ‘বাঙালি বাবু’ সেজে কেন ছুটলেন মন্দিরে?

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার ঠিক পরের সকালেই এক অন্য মেজাজে দেখা গেল রাজভবনের বাসিন্দাকে। সোমবার ভোট গণনার রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার ইতি ঘটার পর মঙ্গলবার সাতসকালে সস্ত্রীক কালীঘাট মন্দিরে পৌঁছে গেলেন বাংলার নবনিযুক্ত রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি।
বাঙালি সাজে নজর কাড়লেন রাজ্যপাল
এদিন রাজ্যপালকে দেখে উপস্থিত অনেকেই অবাক হয়ে যান। কারণ, তাঁর পরনে ছিল একেবারে সাবেকি বাঙালি সাজ— ধুতি এবং পাঞ্জাবি। এর আগেও পয়লা বৈশাখের দিন তাঁকে এই অবতারে দেখা গিয়েছিল। বাঙালির আবেগ এবং সংস্কৃতির প্রতি তাঁর এই টান ফের একবার নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষের। কড়া নিরাপত্তার বলয় পেরিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করে দক্ষিণাকালী মায়ের পুজো দেন তিনি।
রাজনীতি নয়, কেবল আরাধনা
ভোট পরবর্তী হিংসা বা ফল ঘোষণা নিয়ে যখন গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে, তখন রাজ্যপালের এই মন্দির দর্শন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত সযত্নে এড়িয়ে গিয়েছেন রাজনীতির প্রসঙ্গ। আর এন রবি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “রাজনীতি নিয়ে আজ কিছুই বলব না। আমি এখানে এসেছি কেবলমাত্র মায়ের আরাধনা করতে এবং আশীর্বাদ নিতে।”
তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ
এর আগে গত ১৫ এপ্রিল, অর্থাৎ পয়লা বৈশাখের পুণ্যলগ্নেও সস্ত্রীক কালীঘাটে পুজো দিয়েছিলেন তিনি। রাজ্যপালের পদভার গ্রহণ করার পর থেকেই বাংলার কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে বারবার নিজেকে মেলাতে চেয়েছেন তিনি। নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক পরদিন তাঁর এই পুজো দেওয়া কি কেবলই আধ্যাত্মিক, নাকি এর পিছনে কোনও গভীর প্রশাসনিক ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে— তা নিয়ে এখন নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অন্দরমহলে।
তবে আপাতত রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে দূরে থেকে দেবীর আরাধনাতেই মন দিতে চাইলেন বাংলার সাংবিধানিক প্রধান। কালীঘাট মন্দিরে রাজ্যপালকে দেখতে এদিন সাধারণ দর্শনার্থীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।