ভবানীপুরে মহাপ্রলয়! মমতাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন শুভেন্দু, সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে তখন কী ঘটল?

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক অভূতপূর্ব মহাপ্রলয়। তৃণমূলের অবিসংবাদিত দুর্গ হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর কেন্দ্রে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার ফল ঘোষণার পর সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল থেকে যখন জয়ের শংসাপত্র হাতে নিয়ে শুভেন্দু বেরিয়ে এলেন, তখন বাইরে গেরুয়া আবির আর ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিতে কার্যত উৎসবের মেজাজ।

জয়ের ব্যবধান ও পরিসংখ্যান
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৭৩,৯১৭টি ভোট। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলিতে গিয়েছে ৫৮,১১২টি ভোট। অর্থাৎ, ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলনেত্রীকে তাঁর নিজের কেন্দ্রেই হারের স্বাদ আস্বাদন করালেন শুভেন্দু। জয়ের শংসাপত্র সংগ্রহ করেই তিনি রওনা দেন তাঁর অপর কেন্দ্র নন্দীগ্রামের (হলদিয়া) গণনাকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে।

কাকে উৎসর্গ করলেন এই জয়?
জয়ের পর উচ্ছ্বসিত শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে তখন সমর্থকদের ভিড়। সেই ভিড় থেকেই তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই জয় আসলে মতাদর্শের জয়। শুভেন্দু বলেন, “আমাকে জিতিয়েছেন ভবানীপুরের হিন্দু, জৈন ও শিখ সমাজ। তাঁদের জানাই আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম। এই জয় মোদীজির জয়, এই জয় বাংলার জয়।” একইসঙ্গে তিনি এই ঐতিহাসিক সাফল্য উৎসর্গ করেন বাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো ৩০০ বিজেপি কর্মীর স্মৃতিতে। তিনি আরও জানান, ফল ঘোষণার পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে।

অজয় মুখোপাধ্যায়ের ছায়া শুভেন্দুর লড়াইতে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই জয়ের মধ্যে ১৯৬৭ সালের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছায়া দেখছেন। সেবার অজয় মুখোপাধ্যায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল সেনকে পরাজিত করে বাংলা তথা ভারতের রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। ঠিক একইভাবে, এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর গড়ে দাঁড়িয়ে তাঁকে পরাজিত করে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ আমূল বদলে দিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভিটেতে দাঁড়িয়ে এই জয় যে বিজেপির জন্য এক বিরাট মাইলফলক, তা শুভেন্দুর শরীরী ভাষাতেই স্পষ্ট। এই ফলাফল আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের সরকার গঠনে এবং বিরোধী রাজনীতির অলিন্দে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।