রবীন্দ্রজয়ন্তীতেই শপথ! ধুতি-পাঞ্জাবিতে মোদীর ‘বাঙালি লুক’, মমতার অস্ত্রেই কি পাল্টা ঘুঁটি বিজেপির?

বাংলার রাজনীতিতে গত কয়েক মাস ধরে যে একটি শব্দ সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে, তা হলো ‘বাঙালি অস্মিতা’। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে আঘাত হানার অভিযোগ তুলেছেন। বিধানসভা ভোটের প্রচারেও তৃণমূলের প্রধান অস্ত্র ছিল এই বাঙালি আবেগ। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির বিজেপি সদর দফতরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতি যেন এক লহমায় বদলে দিল সমস্ত রাজনৈতিক সমীকরণ।

এদিন মোদীকে দেখা গেল সম্পূর্ণ এক ভিন্ন অবতারে। তাঁর পরনে ছিল নিখুঁত বাঙালি কায়দায় ধুতি এবং পাঞ্জাবি। সাধারণত বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়া এই পোশাকে তাঁকে খুব একটা দেখা যায় না। সদর দফতরে পৌঁছে তিনি কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান এবং মঞ্চে ওঠার পর বিহারের নেতা নিতিন নবীনের কাছ থেকে উপহার হিসেবে একটি মা দুর্গার ছবি গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পোশাক এবং উপহার গ্রহণের এই ভঙ্গিটি আসলে বাংলার মানুষের কাছে একটি বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কৌশল।

তবে চমক শুধু পোশাকেই সীমাবদ্ধ নেই। বিজেপির অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য তারা একটি বিশেষ দিন বেছে নিয়েছে—সেটি হলো ২৫ বৈশাখ অর্থাৎ আগামী ৯ মে, যা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী।

সাধারণভাবে বর্তমান সরকারের মেয়াদ ৭ মে শেষ হওয়ার কথা। তাই ৯ মে শপথ নিতে গেলে মাঝে দুদিনের একটি ব্যবধান থেকে যাচ্ছে। এই দুই দিনের বিলম্ব কোনো সাংবিধানিক সংকটের তৈরি করবে কি না, তা নিয়ে আইনি মহলে জল্পনা থাকলেও বিজেপি নেতৃত্বের লক্ষ্য স্পষ্ট। রবীন্দ্রজয়ন্তীর মতো সংবেদনশীল ও আবেগময় দিনকে বেছে নিয়ে তারা আসলে তৃণমূলের ‘বাঙালি অস্মিতা’র পাল্টা জবাব দিতে চাইছে।

সব মিলিয়ে, বাংলার সংস্কৃতি এবং আবেগকে হাতিয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কৌশল সাজিয়েছিলেন, এবার সেই একই রাস্তায় হেঁটে বাংলার মন জয়ের কোনো সুযোগই হাতছাড়া করতে রাজি নয় পদ্ম শিবির। এখন দেখার, মোদীর এই ‘বাঙালি ইমেজ’ এবং রবীন্দ্রজয়ন্তীতে শপথ গ্রহণের পরিকল্পনা বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে।