স্যুটকেসে বন্দি ৩ বছরের একরত্তি! চকোলেটের লোভ দেখিয়ে নারকীয় লালসা মেটাল খোদ এক নাবালক!

মহারাষ্ট্রের পুণে শহর যেন এক অন্ধকার অপরাধপুরীতে পরিণত হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পর পর দুটি শিশুধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কার্যত দিশেহারা প্রশাসন। এবার তিন বছরের এক নিষ্পাপ শিশুপুত্রকে ধর্ষণ করে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল খোদ এক নাবালকের বিরুদ্ধে। খুনের পর প্রমাণ লোপাট করতে শিশুটির দেহ একটি স্যুটকেসে ভরে রাখা হয়েছিল।
ঘটনার বিবরণ ও পৈশাচিকতা: গত ১ মে, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির সামনেই খেলা করছিল শিশুটি। হঠাৎই সে উধাও হয়ে যায়। পরিবারের লোকজন চারদিকে খোঁজাখুঁজি করেও হদিস পাননি। জানা গিয়েছে, যখন শিশুটির মা প্রতিবেশী ওই নাবালকের বাড়িতে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন, তখন ওই কিশোর অত্যন্ত শান্ত মাথায় তাঁকে বিভ্রান্ত করে অন্য দিকে পাঠিয়ে দেয়। অথচ সেই সময় তার ঘরের ভেতরেই স্যুটকেসে বন্দি ছিল শিশুটির নিথর দেহ।
তদন্ত ও গ্রেফতার: পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোপন সূত্রের খবর খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হয় যে, অভিযুক্ত কিশোরই শিশুটিকে চকোলেট দেওয়ার নাম করে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। পুলিশ আসার আগেই অভিযুক্ত ট্রেন ধরে বিহারে পালানোর ছক কষেছিল। কিন্তু পালানোর পথেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। জেরায় ধৃত নাবালক স্বীকার করেছে যে, সে প্রথমে শিশুটিকে ধর্ষণ করে এবং পরে ধরা পড়ার ভয়ে তাকে কুপিয়ে খুন করে স্যুটকেসে ভরে রাখে।
ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩-১ (খুন), ২৩৮ (প্রমাণ লোপাট) এবং পকসো (POCSO) আইনের একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুণেতে অপরাধের মিছিলে স্তব্ধ সাধারণ মানুষ: একই দিনে পুণের কাছে আরও একটি গ্রামে চার বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের পর পাথর দিয়ে থেঁতলে খুনের ঘটনা সামনে এসেছে। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত এক ৬৫ বছরের বৃদ্ধ। দুটি ঘটনারই ধরন প্রায় এক—খাবারের লোভ দেখিয়ে নির্জনে নিয়ে গিয়ে নৃশংসতা। পর পর এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, অপরাধীদের মনে আইনের ভয় কি তবে একেবারেই ঘুচে গিয়েছে?