ভোররাতের আগুনে ছারখার দিল্লি: প্রাণ হারালেন ৯ জন, শোকাতুর মোদির বড় ঘোষণা!

রবিবারের শান্ত ভোর তখনো কাটেনি। ঘুমের আমেজেই ছিল দিল্লির শাহদারা এলাকা। ঠিক সেই মুহূর্তেই সব ওলটপালট করে দিল বিধ্বংসী আগুন। ৩ মে, রবিবার ভোরে শাহদরার একটি বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণাও করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা ও ক্ষতিপূরণ: ঘটনাটি জানতে পেরেই প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO) থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ গভীর সমবেদনা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “দিল্লির শাহদারা জেলায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি রইল সমবেদনা। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন, এটাই প্রার্থনা করছি।”
শোকপ্রকাশের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
ভোররাতের সেই ভয়াবহ মুহূর্ত: দমকল বাহিনী সূত্রে খবর, রবিবার ভোররাত ৩টে ৪৭ মিনিট নাগাদ আগুনের খবর পৌঁছায় তাদের কাছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ১২টি ইঞ্জিন। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকায় অনেকেই বহুতলের ভেতরে আটকে পড়েন। পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়।
উদ্ধারকারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জনকে ভেতর থেকে বের করে আনতে সক্ষম হন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
বর্তমান পরিস্থিতি ও তদন্ত: দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও আতঙ্ক কাটেনি। শাহদরার ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ আরপি মীনা জানিয়েছেন, বহুতলের ওপরের তলায় এখনো ধোঁয়ার কুণ্ডলী থাকায় তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনো গাফিলতি— সব দিক খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।