গণনার কয়েক ঘণ্টা আগে শুভেন্দুর বিস্ফোরক অভিযোগ! তুফানগঞ্জের এসডিও-র পদক্ষেপে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি!

রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ ফল ঘোষণা। ভাগ্য নির্ধারণ হবে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর। কিন্তু গণনার ঠিক আগের সন্ধ্যায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সন্ধ্যায় ল্যান্সডাউনে পুজো দিয়ে বেরিয়ে সরাসরি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তোপ দাগলেন তিনি।
শুভেন্দুর বিস্ফোরক অভিযোগ: রবিবার পুজো সেরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, গণনার টেবিলে ডিউটি দেওয়ার ক্ষেত্রে বড়সড় অনিয়ম হচ্ছে। তিনি বলেন, “কে কোন টেবিলে, কোন বিধানসভায় ডিউটি করবেন—বিশেষ করে আইসিডিএস অফিসারদের সেই তালিকা সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ছে। এটা সম্পূর্ণ অনৈতিক।”
এখানেই থামেননি তিনি। সরাসরি তুফানগঞ্জের এসডিও-র নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, গণনার কাজে কন্ট্র্যাক্টচুয়াল বা চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়োগ করা হচ্ছে। শুভেন্দুর প্রশ্ন, “পার্মানেন্ট স্টাফ থাকতে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের কেন ব্যবহার করা হচ্ছে? আমি এখনই নির্বাচন কমিশনকে সবটা মেইল করে জানিয়েছি।” সুদেব ওঝা ও বঙ্কিম বসাকের মতো চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নাম উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, নিয়ম ভেঙে এদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হচ্ছে।
স্ট্রংরুম নিয়ে সংঘাতের আবহ: গত দুদিন ধরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের স্ট্রংরুমকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তার পাল্টা হিসেবে শুক্রবার সেখানে যান শুভেন্দু অধিকারীও। শুভেন্দু কটাক্ষ করে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা বদ অভ্যাস আছে—কথায় কথায় ধরনায় বসা। পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই তিনি নাটক করছেন।”
বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী: রাজ্যের ভাগ্য কার হাতে যাবে, তা স্পষ্ট হবে কালকের গণনায়। তবে তার আগেই স্ট্রংরুমের বাইরে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের স্লোগান আর পাল্টাপাল্টি হুঙ্কার বুঝিয়ে দিচ্ছে, লড়াই হবে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে। একদিকে শুভেন্দুর আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে শাসক দলের রণকৌশল—সব মিলিয়ে টানটান উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
শুভেন্দু অধিকারীর এই অভিযোগের পর নির্বাচন কমিশন কোনো তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।