ফলতায় ‘নরক গুলজার’! বিজেপি করলেই ঘর জ্বালানোর হুমকি, ভোট মিটতেই কেন অগ্নিগর্ভ হাসিমনগর?

ভোট মিটেছে, কিন্তু শান্তি ফেরেনি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র এখন কার্যত এক বারুদের স্তূপ। ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগে থেকেই রাজনৈতিক সংঘাত ও সন্ত্রাসের অভিযোগে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে হাসিমনগরের বিস্তীর্ণ এলাকা। বিজেপিকে ভোট দেওয়ার ‘অপরাধে’ গেরুয়া শিবিরের সমর্থকদের ওপর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা চড়াও হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। খুনের হুমকি থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি— আতঙ্কে গ্রাম ছাড়ার উপক্রম সাধারণ মানুষের।
‘৪ তারিখ এলে বোমা পড়বে’, কান্নায় ভেঙে পড়লেন গ্রামবাসীরা শনিবার সকাল থেকেই হাসিমনগরে দফায় দফায় বিক্ষোভ শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের দাবি, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ঘনিষ্ঠ এক পঞ্চায়েত প্রধানের নেতৃত্বে এলাকায় তাণ্ডব চালানো হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের মধ্যে রানি মণ্ডল নামে এক গ্রামবাসী হাহাকার করে বলেন, “পুরো হাসিমনগর জ্বলছে! আমাদের ঘরবাড়িতে তালা দিয়ে দিচ্ছে। হুমকি দিচ্ছে যে ৪ তারিখ ফলাফল বেরোলে আমাদের বাড়িতে বোমা ফেলা হবে, বাচ্চাদের মেরে ফেলা হবে। আমরা কি আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটও দিতে পারব না?”
সাঁজোয়া গাড়ি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী। রীতিমতো সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে রাস্তায় টহল দিচ্ছে বাহিনী। প্রশাসনের তরফে কড়া নজরদারি চালানো হলেও এলাকাবাসীর মন থেকে কাটছে না ‘৪ তারিখ’-এর আতঙ্ক। অনেকেই ভয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে পারছেন না।
২৩ বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি ও সিসিটিভি বিতর্ক ফলতার পরিস্থিতি নিয়ে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে পারে নির্বাচন কমিশন। বিজেপির অভিযোগ, অন্তত ২৩টি বুথে অবাধে ছাপ্পা ভোট হয়েছে। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর রিপোর্টেও উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, ভোটের দিন সকালে একাধিক বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা রহস্যজনকভাবে বন্ধ ছিল। যখন ক্যামেরা চালু হয়, ততক্ষণে প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পড়ে গেছে! প্রিসাইডিং অফিসারের এই গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
গণনার দিনেও কি হতে পারে পুনর্নির্বাচন? রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে যে, ফলতায় কি ফের ভোট হবে? নিয়ম অনুযায়ী, গণনার দিনেও কমিশন চাইলে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারে। উত্তরপ্রদেশের দুঁদে আইপিএস অফিসার ‘সিংহম’ অজয় পাল শর্মার নজরদারিতেও কেন এই অশান্তি, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ কমিশন। রবিবার বা সোমবারের মধ্যেই কমিশন এই বিষয়ে বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে সূত্রের খবর।
ফলতা এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘হটস্পট’। একদিকে তৃণমূলের জয়ের দাবি, অন্যদিকে বিজেপির পুনর্নির্বাচনের জেদ— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন বিশ বাঁও জলে। ৪ মে-র আগে ফলতায় শান্তি ফেরে কি না, সেটাই এখন দেখার।