বন্দুক হাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘হিরোগিরি’! তৃণমূলের নালিশে কড়া পদক্ষেপ, ভোটের মুখে সাসপেন্ড কালীঘাটের ওসি

ভোট গণনা শুরুর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে কলকাতা পুলিশে বড়সড় রদবদল। সোশ্যাল মিডিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবি পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়ে শেষমেশ সাসপেন্ড হলেন কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাস। তাঁর জায়গায় থানার নতুন দায়িত্ব নিলেন চামেলি মুখোপাধ্যায়।
কী ছিল সেই বিতর্কিত পোস্টে? সূত্রের খবর, সম্প্রতি গৌতম দাস নিজের ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে তাঁকে পুলিশের উর্দিতে চেয়ারে বসে হাতে একটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, “নতুন দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত” (Ready for new assignment)। ভোট আবহে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ আধিকারিকের এমন ‘রণং দেহি’ মেজাজ ঘিরেই দানা বাঁধে বিতর্ক।
তৃণমূলের অভিযোগ ও কমিশনের পদক্ষেপ শুক্রবার এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। তৃণমূলের পক্ষ থেকে সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। শাসক দলের দাবি ছিল, নির্বাচনের সময় একজন পুলিশ কর্মীর এই ধরনের ছবি সাধারণ মানুষের মনে ভীতি প্রদর্শন করতে পারে এবং এটি সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের সামিল।
পুলিশের গাইডলাইন ও বরখাস্ত কলকাতা পুলিশের নিয়ম অনুযায়ী, ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় কোনও পুলিশকর্মী সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের ছবি পোস্ট করতে পারেন না। তৃণমূলের অভিযোগ এবং প্রাথমিক তদন্তের পর নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে গৌতম দাসকে তড়িঘড়ি বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। শনিবারই কালীঘাট থানার দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে নতুন ওসি চামেলি মুখোপাধ্যায়কে।
সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে কড়া বার্তা এই ঘটনার পর কলকাতা পুলিশের অন্দরে কর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ডিউটিরত অবস্থায় বা ইউনিফর্মে ব্যক্তিগত প্রচার যে হিতে বিপরীত হতে পারে, গৌতম দাসের সাসপেনশন সেই বার্তাই দিল। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিক।