ভারতীয়দের পকেটে এখন শুধুই আইফোন! রেকর্ড ব্যবসা করেও কেন চিন্তিত অ্যাপল সিইও টিম কুক?

ভারতের স্মার্টফোন বাজারে যখন মন্দার কালো মেঘ, তখনই উল্টো স্রোতে হেঁটে রেকর্ড সাফল্যের মুখ দেখল টেক জায়ান্ট অ্যাপল। ২০২৬ অর্থবর্ষের মার্চ ত্রৈমাসিকে ভারতে আইফোন, আইপ্যাড এবং ম্যাক বিক্রিতে দুই অঙ্কের অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে সংস্থাটি। তবে এই বিপুল সাফল্যের পরেও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নন অ্যাপল সিইও টিম কুক। তাঁর মতে, ভারতীয় বাজারে অ্যাপলের উন্নতির এখনও অনেক সুযোগ রয়েছে।
স্মার্টফোন বাজারে মন্দা বনাম অ্যাপলের দাপট
গত ছয় বছরের মধ্যে ভারতের স্মার্টফোন বাজার বর্তমানে সবচেয়ে দুর্বল ত্রৈমাসিক পার করছে। যন্ত্রাংশের আকাশছোঁয়া দাম এবং চাহিদার অভাবে সামগ্রিক হ্যান্ডসেট সরবরাহ ৩-৫ শতাংশ কমেছে। কিন্তু এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও অ্যাপল তার বিক্রয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বাজার গবেষণা সংস্থা আইডিসি (IDC)-র মতে, ২০২৬-এর প্রথম ত্রৈমাসিকে কোনো বড় ছাড় বা অফার ছাড়াই অ্যাপল মূল্যের দিক থেকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।
আইফোন ১৭ সিরিজের বাজিমাত
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতীয় স্মার্টফোন বাজারের ২৫ শতাংশ ‘ভ্যালু শেয়ার’ দখল করে অ্যাপল এখন বৃহত্তম খেলোয়াড়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সাফল্যের সিংহভাগই এসেছে লেটেস্ট ‘আইফোন ১৭’ সিরিজ থেকে। মার্চ ত্রৈমাসিকে ভারতে অ্যাপলের মোট শিপমেন্টের প্রায় ৬০ শতাংশই ছিল আইফোন ১৭ সিরিজের ফোন। শুধুমাত্র ফোন নয়, ভারতীয় গ্রাহকদের মধ্যে এখন ম্যাকবুক এবং আইপ্যাডের চাহিদাও তুঙ্গে।
টিম কুকের বয়ানে ‘মধ্যবিত্ত ভারত’
বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক আলোচনায় টিম কুক জানান, ভারতে ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণিই অ্যাপলের মূল শক্তি। তিনি বলেন, “ভারতে অসংখ্য মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উন্নীত হচ্ছেন। আমাদের অধিকাংশ আইফোন, ম্যাক বা ওয়াচ ব্যবহারকারীরাই প্রথমবার অ্যাপল ইকোসিস্টেমে প্রবেশ করছেন। এটি আমাদের ইউজার বেস বৃদ্ধির একটি অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ। ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজার, অথচ সেখানে আমাদের বাজার অংশীদারিত্ব এখনও অনেক কম। তাই এখানে আমাদের জন্য এক বিশাল সুযোগ অপেক্ষা করছে।”
চিন্তার কারণ মেমরি চিপের দাম
সাফল্যের মাঝেও কিছুটা সতর্কবাণী শুনিয়েছেন কুক। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে মেমরি চিপের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। যদিও মার্চ ত্রৈমাসিকে এর প্রভাব খুব একটা পড়েনি, তবে জুন ত্রৈমাসিক থেকে এই মূল্যবৃদ্ধি অ্যাপলের ব্যবসায়িক মুনাফায় প্রভাব ফেলতে পারে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কোম্পানি ইতিমধ্যেই বিকল্প পথের সন্ধান শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে, আইফোন ১৭-এর হাত ধরে ভারতে অ্যাপল এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেও, টিম কুকের লক্ষ্য এখন ভারতের প্রতিটি ঘরে পৌঁছানো। ভারতের বিশাল বাজারকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে অ্যাপল আরও বড় কোনো চমক দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।