কাশ্মীরে বড়সড় সাফল্য! সেনার জালে হিজবুল যোগ থাকা কুখ্যাত জঙ্গি-মদতদাতা, উদ্ধার পাকিস্তানি গ্রেনেড

উপত্যকা থেকে সন্ত্রাসবাদ উপড়ে ফেলতে এবার মোক্ষম আঘাত হানল ভারতীয় সেনাবাহিনী ও কাশ্মীর পুলিশ। শনিবার (২ মে) দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে এক সক্রিয় জঙ্গি-সহযোগীকে (Terror Associate) গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে শক্তিশালী চিনা ও পাকিস্তানি গ্রেনেড-সহ বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র।
গোপন ডেরায় যৌথ হানা
নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার সকালে পুলওয়ামা পুলিশ, সেনাবাহিনীর ৪৪ নম্বর রাষ্ট্রীয় রাইফেলস এবং সিআরপিএফ-এর ১৮৩ নম্বর ব্যাটালিয়ন রাজপোরা এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করে। রাজপোরার কাসবিয়ার সিবি নাথ রোডে তল্লাশির সময় মহম্মদ উমর মালিক নামে এক যুবককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। পালানোর চেষ্টা করলে জওয়ানরা তাকে ধাওয়া করে পাকড়াও করেন। কাচিপোরার বাসিন্দা উমর দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
কী কী উদ্ধার হলো?
ধৃত উমর মালিকের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকা দেখে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। তার হেফাজত থেকে মিলেছে:
১টি অত্যাধুনিক স্টার পিস্তল ও ম্যাগাজিন
প্রচুর পরিমাণে তাজা কার্তুজ
১টি শক্তিশালী চিনা গ্রেনেড এবং ১টি পাকিস্তানি হ্যান্ড গ্রেনেড
১টি আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স এবং একটি এয়ারটেল সিম কার্ড
গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, ওই আইফোন ব্যবহার করেই সে সীমান্তের ওপার থেকে আসা কোনো বড় নাশকতার ছক বাস্তবায়নে সাহায্য করছিল।
কঠোর আইনি পদক্ষেপ
ইতিমধ্যেই ধৃতের বিরুদ্ধে রাজপোরা থানায় ৭৫/২০২৬ নম্বর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA) এবং অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। বর্তমানে তাকে একটি গোপন ডেরায় জেরা করা হচ্ছে যাতে তার নেটওয়ার্কে থাকা বাকি সদস্যদের হদিশ পাওয়া যায়।
নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, উমরের গ্রেপ্তারিতে পুলওয়ামা সংলগ্ন এলাকায় একটি সম্ভাব্য জঙ্গি হামলা বা টার্গেট কিলিংয়ের ছক ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদীদের মদতদাতাদের (Over Ground Workers) বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই জিরো টলারেন্স নীতি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।