বারাসাতে স্ট্রং রুমের সিসিটিভি ‘ব্ল্যাক আউট’! দীর্ঘক্ষণ গায়েব ফিড, কারসাজির অভিযোগে রণক্ষেত্র গণনা কেন্দ্র

ভোট মিটলেও উত্তাপ কমছে না বিন্দুমাত্র। এবার স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা এবং সিসিটিভি নজরদারি নিয়ে চরম উত্তেজনা ছড়াল বারাসাতে। দীর্ঘক্ষণ সিসিটিভি ফুটেজ বন্ধ থাকা এবং মনিটর কালো হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় বারাসাত গভর্নমেন্ট কলেজে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত এবং অশোকনগরের প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী।

১৭ মিনিটের ‘রহস্যময়’ অন্ধকার
বারাসাত গভর্নমেন্ট কলেজের এই স্ট্রং রুমে বারাসাত, হাবড়া, অশোকনগর এবং দেগঙ্গা—এই চারটি বিধানসভার ইভিএম রাখা রয়েছে। নিয়মমাফিক স্ট্রং রুমের ভেতরকার ফুটেজ দেখার জন্য বাইরে একটি মনিটর বসানো হয়েছিল। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, এদিন সকাল ৮টা ৫ মিনিট থেকে ৮টা ২২ মিনিট পর্যন্ত সেই মনিটরটি সম্পূর্ণ ‘ব্ল্যাক আউট’ বা কালো হয়ে ছিল।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিড় জমাতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা। তড়িঘড়ি সেখানে পৌঁছান সব্যসাচী দত্ত এবং অশোকনগরের তৃণমূল প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এআরও এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিকরা।

কমিশন বনাম তৃণমূল: বাগযুদ্ধ তুঙ্গে
তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “৮টা ৫ মিনিট থেকে ফুটেজ উধাও। আমাদের লোকেরা বসে আছে অথচ ক্যামেরা বন্ধ কেন? কমিশন কি আমাদের সাথে খেলা করছে? আমাদের ওই সময়ের ফুটেজ দেখাতে হবে, নাহলে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।” একই সুর শোনা যায় প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামীর গলাতেও। তিনি বলেন, “বাইরের মনিটর বন্ধ হওয়া মানেই আমাদের মনে সংশয় তৈরি হওয়া। কমিশনকে আগে সন্তোষজনক উত্তর দিতে হবে যে ভেতরে আসলে কী চলছিল।”

যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি ‘পাওয়ার বাটন’ বিতর্ক?
পরিস্থিতি সামলাতে ময়দানে নামেন বারাসাতের এআরও অভিজিৎ দাস। তিনি দাবি করেন, স্ট্রং রুমের ভেতরের সিসিটিভি বন্ধ হয়নি, বরং যে মনিটরে ফুটেজ দেখা যাচ্ছিল সেটির পাওয়ার সুইচ কেউ অফ করে দিয়েছিল। কমিশনের কর্মকর্তাদের দাবি, সুইচ অন করতেই আবার ফিড ফিরে আসে। এআরও আরও জানান, “আমরা সকাল ৭টা ৫০ থেকে ৮টা ২২ পর্যন্ত পুরো ফিডটি রাজনৈতিক দলগুলোকে দেখাব। বাইরে থেকে কারা সুইচ অফ করেছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।”

পাল্টা অভিযোগ বিজেপির
এদিকে, এই উত্তেজনা চলাকালীন ঘটনাস্থলে বিজেপি কর্মীরা পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিজেপির অভিযোগ, তাদের প্রতিনিধিদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং একপাক্ষিক কাজ চলছে। সব মিলিয়ে গণনার আগের এই সিসিটিভি বিতর্ক বারাসাতে রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নিরাপত্তার ফাঁকফোকর নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে সরব সব পক্ষই।