গণনার পরেও কি ভোট হবে ফলতায়? কমিশনের ‘সিক্রেট’ আইনে কাঁপছে হেভিওয়েট কেন্দ্র, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোট মিটতেই এখন সবার নজর পুনর্নির্বাচন এবং স্ক্রুটিনির দিকে। বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। মগরাহাট পশ্চিম এবং ডায়মন্ড হারবারের একাধিক বুথে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, ফলতা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা করেনি কমিশন। তবে সূত্রের খবর, ফলতার বিতর্কিত বুথগুলো নিয়ে অত্যন্ত কঠোর এবং নজিরবিহীন পথে হাঁটতে পারে নির্বাচন কমিশন। এমনকি গণনার পরেও সেখানে ফের ভোট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কেন নজরে ফলতা? কমিশনের হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ফলতা বিধানসভার ২৩৮টি বুথের মধ্যে প্রায় ৩০টি বুথকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন। প্রিসাইডিং অফিসারদের ডায়েরি খতিয়ে দেখে চক্ষু চড়কগাছ দুঁদে আমলাদের। দেখা গেছে, দুপুর ১টার মধ্যেই বহু বুথে ৫৮ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু বুথে ১০০ শতাংশ ভোট পড়ার মতো অবিশ্বাস্য ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
অভিযোগ আরও মারাত্মক—বেশ কিছু বুথে ইভিএমের ওপর সেলোটেপ লাগানো ছিল এবং কৌশলে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নেটওয়ার্কের দোহাই দিয়ে সেই সময় কন্ট্রোল রুমে কোনো তথ্য পাঠানো হয়নি। এখন প্রিসাইডিং অফিসারদের খাতা এবং বুথ পর্যায়ের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে কমিশনের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
গণনার পরেও কি ভোট সম্ভব? আইনের মারপ্যাঁচে শোরগোল
সাধারণত গণনার আগেই পুনর্নির্বাচন সেরে ফেলা হয়। কিন্তু ফলতার ক্ষেত্রে শোনা যাচ্ছে অন্য সুর। আইনি বিশেষজ্ঞ ও কমিশন সূত্রের খবর, বিশেষ পরিস্থিতিতে গণনার পরেও কোনো নির্দিষ্ট বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের হাতে থাকে। যদি দেখা যায় বুথ দখলের প্রমাণ মিলেছে বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড়সড় ত্রুটি ছিল, তবে গণনার পরেও সেই আইন প্রয়োগ করা হতে পারে। এছাড়া গণনার ঠিক আগের দিন অর্থাৎ রবিবারও আচমকা রিপোলের বিজ্ঞপ্তি আসতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
কোথায় কোথায় হচ্ছে পুনর্নির্বাচন?
ফলতা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের বাকি দুটি এলাকায় পুনর্নির্বাচন নিশ্চিত করেছে কমিশন।
ডায়মন্ড হারবার: ১১৭, ১৭৯, ১৯৪ এবং ২৪৩ নম্বর বুথে ফের ভোট নেওয়া হবে।
মগড়াহাট পশ্চিম: এই কেন্দ্রে সবথেকে বেশি ১১টি বুথে (৪৬, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৪২, ২১৪, ২১৫, ২১৬, ২৩০, ২৩১ ও ২৩২) পুনর্নির্বাচন হতে চলেছে।
ফলতা নিয়ে গত রাতেই দিল্লিতে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। এখন দেখার, কমিশন কি প্রথাগতভাবে গণনার আগে ভোট করাবে, নাকি ‘নজিরবিহীন’ কোনো পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা করবে।