ভবানীপুরে কি হারছেন মমতা? ‘বোরখা’ ও ‘বাংলাদেশি স্লোগান’ নিয়ে শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় বাংলা!

বঙ্গ রাজনীতিতে কি ফের একবার বড়সড় ওলটপালট হতে চলেছে? নন্দীগ্রামের পর এবার কি খোদ নিজের গড় ভবানীপুরেও হারের মুখ দেখতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর দাবিতে এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। ‘বাংলাদেশি স্লোগান’ থেকে শুরু করে ‘বোরখা পরে ভোটদান’— একাধিক বিতর্কিত ইস্যু তুলে ধরে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন শুভেন্দু।
নন্দীগ্রামের স্মৃতি উসকে শুভেন্দুর হুঙ্কার
বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের আগে থেকেই ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়ে সুর চড়িয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারের স্বাদ পেতে হয়েছিল, ভবানীপুরেও সেই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে। শুভেন্দুর মতে, এলাকার সাধারণ মানুষের সমর্থন তৃণমূলের থেকে সরে গিয়েছে, আর সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে ‘অগণতান্ত্রিক’ পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে।
‘বাংলাদেশি স্লোগান’ ও ‘বোরখা’ বিতর্ক
শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন যে, ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ভিনদেশি স্লোগান শোনা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এখানেই থামেননি তিনি। তাঁর আরও দাবি, ভোটগ্রহণের সময় পরিচয় গোপন করতে এবং ‘ফেক ভোটিং’ বা ভুয়ো ভোট নিশ্চিত করতে অনেক ক্ষেত্রে বোরখা ব্যবহারের কৌশল নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “ভোটার কার্ড চেক না করেই বোরখা পরে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে একটি বিশেষ মহলকে জেতাতে।”
চাপে শাসক শিবির?
বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্য সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের নেতাদের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই শুভেন্দু অধিকারী সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা করছেন এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন। ভবানীপুরের মানুষ ঘরের মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছেন বলে দাবি তাঁদের।
৪ মে-র দিকে তাকিয়ে বাংলা
আগামী ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা। তার আগে শুভেন্দুর এই ‘ভবিষ্যৎবাণী’ এবং বিস্ফোরক অভিযোগ রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সত্যিই কি ভবানীপুরে কোনও অলৌকিক ফল হতে চলেছে? না কি শুভেন্দুর এই দাবি স্রেফ রাজনৈতিক চাপানউতোর? সব উত্তর মিলবে ফলপ্রকাশের দিনেই।