ইরানকে ‘শূকরের’ সাথে তুলনা ট্রাম্পের! যুদ্ধের হুঁশিয়ারিতে আকাশছোঁয়া তেলের দাম, কাঁপছে বিশ্ববাজার!

বিশ্বজুড়ে ফের ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযান এখনই থামছে না, বরং তা আরও কয়েক মাস চলতে পারে বলে সাফ জানিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই রণংদেহী মেজাজের সরাসরি প্রভাব পড়ল বিশ্ব তেলের বাজারে। বুধবার অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে গিয়েছে।

পুতিনের হুঁশিয়ারি ও ট্রাম্পের পাল্টা চাল
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পথ বর্তমানে প্রায় রুদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে উত্তাপ আরও বাড়িয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে পুতিন স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, আমেরিকা ও ইজরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করে, তবে তার ফল হবে মারাত্মক এবং বিধ্বংসী।

তবে পুতিনের এই হুঁশিয়ারিকে কার্যত গুরুত্ব দিতে নারাজ হোয়াইট হাউস। তেল খাতের আধিকারিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বন্দরগুলির ওপর নৌ-অবরোধ জারি রাখা সরাসরি বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি কার্যকর। তাঁর ভাষায়, “ইরান এখন এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় পড়েছে, ঠিক যেন অতিরিক্ত খাবার খেয়ে হাঁসফাঁস করা কোনও শূকর। তাদের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে চলেছে।”

রেকর্ড উচ্চতায় তেলের দাম: সংকটে বিশ্ববাজার
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরেই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭.৬ শতাংশ বেড়ে ১১৯.৬৯ ডলারে পৌঁছেছে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দামের এই উল্লম্ফন সর্বকালীন রেকর্ড। এদিকে ইরানও পালটা চাল হিসেবে বিশ্বের তেলের লাইফলাইন বলে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই পথ রুদ্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জার্মানিকে হুমকি ও ঘরোয়া চাপ
শুধুমাত্র ইরান নয়, ট্রাম্পের নিশানায় এখন তাঁর বন্ধু দেশগুলিও। হরমুজ প্রণালীতে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠাতে অস্বীকার করায় জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎজ-এর তীব্র সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এমনকি জার্মানি থেকে মার্কিন সৈন্য সরিয়ে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন তিনি। চ্যান্সেলর মেরৎজ মন্তব্য করেছিলেন যে, আলোচনার টেবিলে ইরান ওয়াশিংটনকে অপমান করছে— আর এই মন্তব্যেই চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তবে নিজের দেশেও চাপের মুখে ট্রাম্প। তেলের আকাশছোঁয়া দামের কারণে মার্কিন আমজনতার ক্ষোভ বাড়ছে। ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের একটি বড় অংশও এই যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে ইরানের ওপর মার্কিন চাপ বাড়লেও, তার চড়া মূল্য দিতে হতে পারে বিশ্ব অর্থনীতিকে।