ইভিএমে ঝরল ভোটের বৃষ্টি! ১৯৫২ থেকে ২০২৬— সব ইতিহাস মুছে দিল পশ্চিমবঙ্গ, অবিশ্বাস্য হার দেখে থ স্তম্ভিত দিল্লি!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এক অবিস্মরণীয় ইতিহাসের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ পর্বে বাংলার মানুষ যা করে দেখালেন, তা গত সাড়ে সাত দশকের সমস্ত রেকর্ডকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার ভোটে ভোটদানের হার পৌঁছেছে অবিশ্বাস্য ৯১.৩ শতাংশে!
ভেঙে গেল স্বাধীনতার পর সব রেকর্ড: ১৯৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত, কোনো বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, ভারতের আর কোনো রাজ্যে এত বিপুল হারে ভোট পড়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিপূর্বেই চর্চা শুরু হয়েছে। কমিশনের শীর্ষ কর্তারা জানিয়েছেন, এটি ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের অন্যতম ‘সর্বোচ্চ’ ভোটদানের হার। বাংলার সচেতন ভোটাররা বুঝিয়ে দিলেন, ক্ষমতার লড়াইয়ে শেষ কথা বলবে সাধারণ মানুষই।
কমিশনের বিশেষ অভিনন্দন: ভোটের এই বিপুল উৎসাহ দেখে আপ্লুত নির্বাচন কমিশন। দিল্লির সদর দফতর থেকে বাংলার ভোটারদের বিশেষ অভিনন্দন জানানো হয়েছে। কমিশনের এক আধিকারিক বলেন, “এত বিপুল জনসমাগম সত্ত্বেও ভোটপ্রক্রিয়া মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ছিল। ভোটারদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের জন্য এক শুভ লক্ষণ।” SIR (Systematic Intervention for Registration) এবং কমিশনের প্রচার যে সাধারণ মানুষের মনে দাগ কেটেছে, এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ।
কেন এই ‘ভোট-বিস্ফোরণ’? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ইস্যুগুলো অত্যন্ত জোরালো। একদিকে বেকারত্ব ও উন্নয়নের দাবি, অন্যদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের লড়াই— দুই পক্ষই ভোটারদের বুথমুখী করতে মরিয়া ছিল। এছাড়া আবহাওয়া অনুকূল থাকা এবং নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের ভরসা বাড়ায় রেকর্ড সংখ্যক মানুষ বাড়ির বাইরে বেরিয়েছেন।
কোন দিকে পাল্লা ভারী? সাধারণত ‘হাই-ভোল্টেজ’ ভোটদান মানেই শাসকের জন্য চিন্তার কারণ না কি পরিবর্তনের ইঙ্গিত— তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তবে ৯১ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার অর্থ হলো, প্রান্তিক মানুষ থেকে শুরু করে নতুন ভোটার— কেউ এবার বাদ যাননি। বিশেষ করে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন অনেক বুথেই নজর কেড়েছে।
রাত বাড়ার সাথে সাথে চূড়ান্ত পরিসংখ্যান আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আপাতত ৯১.৩ শতাংশ ভোটদানই বাংলার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।