বিয়ের আনন্দ নিমেষেই বিষাদ! মেয়েকে সাঁতার শেখাতে গিয়ে তান্ডুলা খালের প্রবল স্রোতে তলিয়ে গেলেন বাবা, উদ্ধার নিথর দেহ

উৎসবের আলো নিভে গেল এক লহমায়। শ্বশুরবাড়িতে বিয়ের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে এসে তান্ডুলা খালের গর্ভে চিরতরে তলিয়ে গেলেন বাবা ও তাঁর ১২ বছরের কন্যা। ছত্তিশগড়ের বালোদ জেলার পিপারছেড়ি গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত দুপুরে?
ধোবানপুরী গ্রামের বাসিন্দা টাইমান গঞ্জীর পেশায় একজন ইমার্জেন্সি মেডিকেল টেকনিশিয়ান (EMT)। ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবায় যুক্ত থেকে শত শত মানুষের প্রাণ বাঁচানোই ছিল তাঁর কাজ। মঙ্গলবার দুপুরে মেয়ে পালানকি ও আত্মীয়ের আরেক কন্যা দামিনীকে নিয়ে বাড়ির কাছের তান্ডুলা খালে স্নান করতে গিয়েছিলেন তিনি। জানা গেছে, মেয়েকে নিজের হাতে সাঁতার শেখাতে চেয়েছিলেন টাইমান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই সময় তান্ডুলা জলাধার থেকে জল ছাড়া হচ্ছিল, ফলে খালের স্রোত ছিল অস্বাভাবিক তীব্র।
মুহূর্তের অসাবধানতায় জলসমাধি
জলের গভীরতা ও স্রোতের বেগ আন্দাজ করতে পারেননি টাইমান। মুহূর্তের মধ্যে তিনজনেই স্রোতের টানে ভেসে যেতে শুরু করেন। তাঁদের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে দামিনীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও চোখের পলকে তলিয়ে যান টাইমান ও তাঁর শিশুকন্যা।
উদ্ধার অভিযানে উদ্ধার নিথর দেহ
ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ও ডুবুরি দল উদ্ধারকাজে নামে। তল্লাশি চালানোর সুবিধার্থে বাঁধ থেকে জলের প্রবাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে ৪০০ মিটার দূরে উদ্ধার হয় টাইমানের নিথর দেহ। কিন্তু পালানকির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর বুধবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে উদ্ধার হয় ১২ বছর বয়সী ওই কিশোরীর মরদেহ।
শোকে পাথর পরিবার
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, টাইমান সম্প্রতি বালোদ সদর দপ্তরে বদলি হয়ে এসেছিলেন। মাত্র এক মাস আগে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বিয়ের আনন্দ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে এইভাবে একই পরিবারের দু’জনের অকাল মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। গ্রামবাসী থেকে শুরু করে সহকর্মীরা—সকলেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাকরুদ্ধ।