‘উনার বয়স হয়েছে, এবার বাড়ি যান’, ভোট দিয়েই মমতাকে তীব্র খোঁচা শুভেন্দুর

আজ বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত তথা দ্বিতীয় দফা। আর এই দফার সবচেয়ে ‘ভিআইপি’ এবং হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র হলো দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর। একদিকে ঘরের মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে তাঁরই একদা সেনাপতি তথা বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হতেই ভবানীপুরে কার্যত মুখোমুখি হয়ে গেলেন এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী। আর ভোট দিয়েই আক্রমণ ও পালটা আক্রমণে সরগরম হয়ে উঠল রাজনীতির অন্দরমহল।

“৩০ হাজারে জিতছি, উনি বাড়ি যান”: আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু
এদিন হাসিমুখে ভোট দিয়ে বেরিয়েই বিজয়ী চিহ্ন (V sign) দেখান শুভেন্দু অধিকারী। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন:

“আমি লিখে দিচ্ছি, ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে আমি ভবানীপুরে জিতব। মানুষের আশীর্বাদ আমার সঙ্গেই আছে।”

মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও ছাড়েননি তিনি। শুভেন্দুর খোঁচা, “উনি (মমতা) খুব চাপে আছেন। ওনার বয়স হয়েছে, ভোটটা দিয়ে এবার ওনার শান্তিতে বাড়ি চলে যাওয়া উচিত।”

“সারারাত তাণ্ডব হয়েছে, আমি আর অভিষেক জেগে ছিলাম”: মমতা
অন্যদিকে, এদিন সকালে চেতলা এবং ভবানীপুরের বিভিন্ন বুথ পরিদর্শন করতে বেরোন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট লুঠ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন:

“আপনারা জানেন না, কাল সারারাত ওরা (বিজেপি) কী তাণ্ডব করেছে! আমি আর অভিষেক সারারাত এক মুহূর্তও ঘুমোতে পারিনি। প্রতিটা খবর রাখছিলাম।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছেন যে, নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক এবং সিআরপিএফ (CRPF) নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

পালটা কটাক্ষ শুভেন্দুর
মমতার এই ‘জেগে থাকা’-র মন্তব্যকে বিঁধতে সময় নেননি শুভেন্দু। তাঁর পালটা দাবি, “পরাজয় নিশ্চিত বুঝলে মানুষের ঘুম ওড়েই। ওনারা ভয় পেয়েছেন বলেই সারারাত জেগে ছিলেন।”

কেন ভবানীপুর এবার নজরে?
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে ঠিক একইভাবে সম্মুখসমরে নেমেছিলেন এই দুই মহারথী। সেবার অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু। এবার মমতা নিজের ‘পুরানো দুর্গ’ ভবানীপুর থেকে শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। শুভেন্দুও নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর থেকেও লড়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তিনি লড়াই ছাড়তে নারাজ।