লাইন এগোচ্ছে না কেন? ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ওপর লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে গেল বাহিনী, আটক ২

দ্বিতীয় দফার ভোট শুরু হতে না হতেই অশান্তির আগুনে পুড়ল হাওড়া। একদিকে ইভিএম বিভ্রাট, অন্যদিকে বুথের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিচার্জ— সব মিলিয়ে বালি থেকে দক্ষিণ হাওড়া, সকাল থেকেই উত্তপ্ত শিল্পাঞ্চল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সশরীরে ময়দানে নামতে হলো খোদ পুলিশ কমিশনারকে।
বালিতে লাঠিচার্জ, আটক ২
বালি বিধানসভা কেন্দ্রের লিলুয়া ডন বসকো স্কুলের ১৫২, ১৫৩ এবং ১৫৪ নম্বর বুথে সকালে আচমকাই ইভিএম বিকল হয়ে যায়। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটাররা ধৈর্য হারিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগ, ভোটারদের ক্ষোভ প্রশমিত করার বদলে তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। উত্তেজনার জেরে পুলিশ দু’জনকে আটক করেছে। হাওড়া পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
দক্ষিণ হাওড়ায় ‘ধীরগতি’র রাজনীতি?
অশান্তির আঁচ লেগেছে দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রেও। থানামাখুয়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের বুথে ভোটারদের হেনস্থা করার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শ্যামলকুমার হাতি। তাঁর দাবি:
“ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রচুর ফাঁকা জায়গা থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের রোদের মধ্যে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটগ্রহণের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে ভোটাররা ভয় পেয়ে ফিরে যান।”
সেক্টর অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।
একনজরে হাওড়ার ভোট চিত্র:
ইভিএম বিভ্রাট: বালির তিনটি বুথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘক্ষণ ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে।
ভোটার ভোগান্তি: আন্দুল রোডের ওপর ভোটারদের দীর্ঘ লাইন পড়লেও ভোটপ্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে বলে অভিযোগ।
প্রশাসনের দাবি: আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই পুলিশ ও বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
নোট: প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফাতেও ইভিএম বিভ্রাট কেন পিছু ছাড়ছে না, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিচার্জের ঘটনা সাধারণ ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।