রেওয়াজ ভেঙে সাতসকালেই রাস্তায় মমতা! শুভেন্দুর তীব্র কটাক্ষ— “ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না”

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার সকালেই বদলে গেল বাংলার চেনা রাজনৈতিক ছবি। সচরাচর ভোটের দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিকেলের আগে ঘর থেকে বেরোতে দেখা যায় না। কিন্তু বুধবার সাতসকালেই কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বুথে বুথে ঘুরে ভোট পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। আর তাতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর খোঁচা— “ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না!”
রেওয়াজ ভাঙলেন মমতা: কেন এই সক্রিয়তা?
সাধারণত ভোটের দিন বিকেল ৩টে নাগাদ মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিতে যেতেন মমতা। কিন্তু এবার চিত্রটা আমূল আলাদা। সকালেই চেতলা ও পদ্মপুকুর এলাকায় পৌঁছে যান তিনি। মমতার অভিযোগ:
বাইরে থেকে আসা পর্যবেক্ষকরা বিজেপির নির্দেশে কাজ করছেন।
ফিরহাদ হাকিমের (ববি) বাড়িতে মাঝরাতে কেন্দ্রীয় সংস্থার হানা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মমতার প্রশ্ন— “ববির স্ত্রী একা ছিলেন, মাঝরাতে গিয়ে দরজা ধাক্কাচ্ছে! মহিলারা আতঙ্কিত। এভাবে কি ভোট হতে পারে?”
শুভেন্দুর পাল্টা কটাক্ষ ও মন্দির দর্শন
ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী মমতার এই সকাল সকাল রাস্তায় নামাকে বিদ্রুপ করতে ছাড়েননি। তিনি সাফ বলেন, পরাজয়ের ভয়েই এভাবে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে সকালে একটি মন্দিরে পুজো দিয়ে জয়ের প্রার্থনা করেন বিরোধী দলনেতা।
দুই শিবিরের মুখোমুখি লড়াই
ভবানীপুর এবার ভারতের রাজনীতির এপিসেন্টার। একদিকে তৃণমূলের দুর্গ রক্ষা করার চ্যালেঞ্জ মমতার কাছে, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর লক্ষ্য এই হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ছিনিয়ে নেওয়া। মমতা এদিন জানিয়ে দিয়েছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তিনি আজ সারাদিন রাস্তাতেই থাকবেন।