রাজ্যে ভোটের মহাপ্রলয়! সকাল ৯টাতেই চমকে দেওয়া পরিসংখ্যান, মমতা-শুভেন্দুর লড়াইয়ে শেষ হাসি কার?

শুরু হয়ে গিয়েছে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের মহাগুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় দফা। রাজ্যের সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে আজ ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে হেভিওয়েট প্রার্থীদের। ঘড়ির কাঁটা সকাল ৯টা ছুঁতেই যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে রাজ্যে গড়ে ১৮.৩৯ শতাংশ ভোটদান সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রথম দফার তুলনায় এবার সকালের দিকে ভোটের হার কিছুটা কম।
একনজরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের ভোটের হার (সকাল ৯টা পর্যন্ত):
ভবানীপুর: ১৭.০৮%
ভাটপাড়া: ১৮.৬৬%
যাদবপুর: ১৬.৩৭%
বরানগর: ১৮.৬৫%
কলকাতা পোর্ট: ১৬.২০%
ভবানীপুরে সম্মুখ সমরে মমতা-শুভেন্দু
এই দফার সবথেকে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে ভবানীপুর কেন্দ্র। এই আসনে স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে গেরুয়া শিবিরের তুরুপের তাস রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হেভিওয়েট এই দুই প্রার্থীর লড়াইয়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।
ভাঙড়ে নওশাদ বনাম আরাবুল: বদলাবে কি ইতিহাসের পাতা?
দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে আইএসএফ-এর (ISF) ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভাঙড় থেকে ফের লড়াই করছেন নওশাদ সিদ্দিকি। তবে চমক রয়েছে ক্যানিং পূর্বে। তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফ-এ যোগ দেওয়া দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলাম এবার নতুন চিহ্নে লড়ছেন, যা শাসক শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
পরিসংখ্যান যখন ভাগ্যবিধাতা
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ১৪২টি আসনের মধ্যে বড় অংশে বিজেপি ছিল ‘শূন্য’। বিশেষ করে হাওড়া, কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঘাসফুল শিবিরের দাপট ছিল প্রশ্নাতীত। এবার কি বিজেপি সেই দুর্গে ফাটল ধরাতে পারবে?
ভোটের ময়দানের কিছু চমকে দেওয়া তথ্য:
মোট ভোটার: ৩ কোটি ২১ লক্ষ ৭৫ হাজার ২৯৯ জন।
নতুন ভোটার: ১৮-১৯ বছর বয়সি ৪ লক্ষ ১২ হাজার ৬৬৮ জন প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণ প্রজন্মের ভোটই বদলে দিতে পারে ক্ষমতা দখলের লড়াই।
শতায়ু ভোটার: ৩২৪৩ জন প্রবীণ নাগরিকও আজ শামিল হয়েছেন গণতান্ত্রিক উৎসবে।
তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার: ৭৯২ জন।
সম্পাদকের নোট: প্রথম দফায় পিছিয়ে থাকা বিজেপি দ্বিতীয় দফায় কামব্যাক করতে পারবে? নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গ রক্ষা করবে দক্ষিণবঙ্গ? ৪ লক্ষ নতুন ভোটার এবং ক্যানিংয়ের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণই বলে দেবে ২০২৬-এর ভবিতব্য।