ভোট বড় বালাই! আড়াই হাজার বাস এখন কমিশনের দখলে, মে-র প্রথম সপ্তাহের আগে কি মিলবে না স্বস্তি?

আসন্ন বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচন। আর এই মহারণের প্রস্তুতিতেই এখন নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের। বুধবারের ভোটের ডিউটিতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ও বেসরকারি বাস এবং মিনিবাস অধিগ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। এর জেরেই সপ্তাহের শুরু থেকে কলকাতার রাজপথে বাসের আকাল চরম আকার নিয়েছে।
হাহাকার রাজপথে: সোমবার সকাল থেকেই শিয়ালদহ, হাওড়া স্টেশন থেকে শুরু করে ধর্মতলা বা করুণাময়ীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনাসগুলোতে দেখা গিয়েছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। আধ ঘণ্টা, এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরেও দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত রুটের বাসের। যারাও বা আসছে, তাতে তিলধারণের জায়গা নেই। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
কেন এই পরিস্থিতি? পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য প্রায় আড়াই হাজার বেসরকারি বাস এবং কয়েকশো সরকারি বাস ইতিমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে। এই বাসগুলি ভোটকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাসমালিক সংগঠনগুলোর দাবি, প্রশাসনের নির্দেশ মেনে তাদের অধিকাংশ বাসই এখন কমিশনের অধীনে।
কবে ফিরবে স্বাভাবিক ছন্দ? বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোট মিটে গেলেও দুর্ভোগ এখনই পিছু ছাড়ছে না। কারণ আগামী ৪ মে রয়েছে ভোটগণনা। পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহের আগে শহরের রাস্তায় বাসের সংখ্যা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বেসরকারি বাসের অভাবে অ্যাপ-ক্যাব বা অটোতে অতিরিক্ত ভাড়া হাঁকার অভিযোগও তুলছেন নিত্যযাত্রীরা।
ভোটের এই উৎসবে আমজনতার যাতায়াতের সম্বলটুকু এভাবে কেড়ে নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। গন্তব্যে পৌঁছোতে কার্যত ‘লড়াই’ করতে হচ্ছে আম-আদমিকে।