বুথে যাওয়ার আগে উৎসবের মেজাজ! ইভিএম-ভিভিপ্যাট হাতে ভোটকর্মীদের সেই চওড়া হাসিই কি বদলে দেবে বাংলার সমীকরণ?

নির্বাচনের ডিউটি মানেই আগেকার সেই আতঙ্ক বা দুশ্চিন্তার দিন কি তবে শেষ? অন্তত দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের ছবিটা তেমনই এক ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। কোনো হুড়োহুড়ি নেই, নেই বিশৃঙ্খল লম্বা লাইন। বরং এক অনাবিল স্বস্তি ও চওড়া হাসি মুখে নিয়ে বুথের উদ্দেশ্যে রওনা হতে দেখা গেল হাজার হাজার ভোটকর্মীকে।
শৃঙ্খলার নতুন নজির: মঙ্গলবার সকাল থেকেই নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে ছিল সাজ সাজ রব। নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্র, পার্ট নম্বর এবং বুথ নম্বর অনুযায়ী আলাদা আলাদা টেবিল সাজানো হয়েছিল। সেখান থেকেই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে নিজের নিজের ইভিএম (EVM), ভিভিপ্যাট (VVPAT) এবং ভোটার তালিকা বুঝে নিচ্ছেন কর্মীরা। ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারের এই সুশৃঙ্খল পরিবেশ দেখে খুশি ভোটকর্মীরাও।
কেন এই স্বস্তি? ভোটকর্মীদের একাংশের মতে, এবার নিরাপত্তা এবং লজিস্টিক সাপোর্ট অনেক বেশি উন্নত। একজন ভোটকর্মী হাসিমুখে জানালেন, “আগে মনে একটা ভয় কাজ করত, কিন্তু এবার যেভাবে প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয় দেখা যাচ্ছে, তাতে আমরা নির্ভয়ে কাজ করতে পারব বলে আশাবাদী।” সেক্টর অফিসারদের দ্রুত তৎপরতা এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সহজলভ্যতা এই ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে।
নির্ভয়ে ভোটের বার্তা: স্টেডিয়াম থেকে বেরনোর সময় ভোটকর্মীদের চোখেমুখে দেখা গেল এক অন্যরকম আত্মবিশ্বাস। হাতে নীল রঙের বাক্সে বন্দি ইভিএম নিয়ে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণী ভোটকর্মীর কথায়, “গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে পেরে ভালো লাগছে। কোনো চাপ অনুভব করছি না।”
দ্বিতীয় দফার এই মহারণের আগে ভোটকর্মীদের এই ‘পজিটিভ এনার্জি’ কি বুথগুলোতেও বজায় থাকবে? নেতাজি ইনডোরের এই সুশৃঙ্খল ছবি আপাতত সেই আশাই জাগাচ্ছে সাধারণ ভোটারদের মনে।