আকাশপথ কি এবার বিলাসিতা? এটিএফ-এর দামে রেকর্ড বৃদ্ধি, টিকিট বাড়ার আশঙ্কায় মাথায় হাত যাত্রীদের!

ভারতের আকাশপথে এবার বড়সড় দুর্যোগের কালো মেঘ! একদিকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি, অন্যদিকে আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম— এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে কার্যত ‘লাইফ সাপোর্টে’ চলে গিয়েছে দেশের বিমান পরিষেবা। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, এবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আর্জি জানাল ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং স্পাইসজেটের মতো প্রথম সারির বিমান সংস্থাগুলো।

📉 ২ লক্ষের গণ্ডি পার! কেন এই হাহাকার?

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে ভারতে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) বা বিমান জ্বালানির দাম প্রতি কিলোলিটারে ২ লক্ষ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। ‘ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স’ (FIA) মন্ত্রককে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বিমানের মোট খরচের প্রায় ৬০ শতাংশই এখন চলে যাচ্ছে জ্বালানি কিনতে। ফলে অনেক রুটে বিমান চালানো এখন লসের ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

⚡ সংকটের মুখে বিমান সংস্থাগুলোর ৩টি বড় দাবি:

১. শুল্ক মকুব: জ্বালানির ওপর থাকা ১১ শতাংশ আবগারি শুল্ক অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। ২. ভ্যাট কমানো: বিভিন্ন রাজ্যে তেলের ওপর যে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ভ্যাট (VAT) নেওয়া হয়, তা কমানোর আর্জি জানানো হয়েছে। ৩. স্থায়ী নীতি: বিশ্ববাজারে তেল কমলেও ভারতে এটিএফ-এর দাম কেন কমে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থিতিশীল মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন বিমান কর্তারা।

✈️ সাধারণ যাত্রীদের ওপর কী প্রভাব পড়বে?

জ্বালানির এই অগ্নিমূল্য অব্যাহত থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে আপনার পকেটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন:

  • ভাড়া বৃদ্ধি: লোকসান সামাল দিতে টিকিটের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিতে পারে সংস্থাগুলো।

  • রুট বাতিল: যেসব রুটে যাত্রী কম কিন্তু খরচ বেশি, সেই সব রুটে বিমান চলাচল পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

  • পরিষেবায় কোপ: আর্থিক সংকটের কারণে কমতে পারে বিমানের সংখ্যা ও ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সি।

🌍 আন্তর্জাতিক যুদ্ধের কোপ ভারতের আকাশে

মূলত পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অশান্তি এবং আমেরিকা-ইসরায়েল বনাম ইরান উত্তেজনার জেরে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মাশুল গুনতে হচ্ছে ভারতীয় সংস্থাগুলোকে। পরিস্থিতি যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে ভারতের এভিয়েশন সেক্টরে বড়সড় ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এখন দেখার, মোদী সরকার কি এই সংকটে বিমান সংস্থাগুলোর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, নাকি সাধারণ মানুষের জন্য আকাশপথের যাত্রা আরও দুর্লভ হয়ে ওঠে।