টেট পাশ না করলে চলে যাবে চাকরি? আজ সুপ্রিম কোর্টে ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছে লক্ষ লক্ষ শিক্ষকের!

কর্মরত শিক্ষকদের জন্য কি ‘টেট’ (TET) পাশ করা বাধ্যতামূলক? আজ সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হতে চলেছে। শীর্ষ আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ সারা দেশের প্রায় ৩৩ লক্ষ শিক্ষকের ভবিষ্যৎ। বিশেষ করে যাঁরা টেট চালু হওয়ার আগে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।
কেন এই চরম উদ্বেগ?
গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছিল, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর জন্য টেট বাধ্যতামূলক। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল:
যাঁরা কর্মরত কিন্তু টেট পাশ করেননি, তাঁদের আগামী ২ বছরের মধ্যে এই পরীক্ষায় পাশ করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ে পাশ করতে না পারলে চাকরি খোয়ানো বা বাধ্যতামূলক অবসরের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
অবশ্য যাঁদের অবসরের আর মাত্র ৫ বছর বাকি, তাঁদের জন্য কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছিল।
আইনি জট ও রিভিউ পিটিশন
২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন এবং ২০১০ সালের NCTE নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রাথমিক ও উচ্চ-প্রাথমিক শিক্ষকতায় টেট বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে প্রথম টেট পরীক্ষা শুরু হয় ২০১১ সালে। ফলে এর আগে যাঁরা কাজে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের সিংহভাগেরই এই সার্টিফিকেট নেই।
এই রায়ের ফলে ২৫-৩০ বছর ধরে শিক্ষকতা করা প্রবীণ শিক্ষকরাও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এরই প্রতিবাদে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের তরফে সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন বা পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছে।
আজকের শুনানিতে নজর সবার
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চে আজ এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। শিক্ষক নেতা ধ্রুবশেখর মণ্ডল ও ভীমসেন বিশওয়ালদের দাবি, টেট চালুর আগে যাঁরা নিযুক্ত হয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রয়োগ করা উচিত নয়।
শিক্ষকদের দাবি: > “যাঁরা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সাফল্যের সঙ্গে শিক্ষকতা করছেন, ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে এসে তাঁদের ওপর নতুন করে পরীক্ষার চাপ দেওয়া অযৌক্তিক। আমরা পূর্ণাঙ্গ শুনানির আবেদন জানাচ্ছি।”
আজকের রায়ে কি আদালত তাঁর আগের অবস্থান থেকে সরে আসবে, নাকি লক্ষ লক্ষ শিক্ষককে ফের বসতে হবে পরীক্ষার আসনে? সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশের শিক্ষা মহল।