ভোটার স্লিপ পিছু ৩০ হাজার টাকা! বিএলও-র বিরুদ্ধে মারাত্মক দুর্নীতির অভিযোগ বনগাঁয়, তোলপাড় এলাকা

ভোটের মুখে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ালো উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর কালুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ভোটার তালিকায় নাম তোলা এবং এসআইআর (SIR) শুনানির নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ এক বিএলও-র (BLO) বিরুদ্ধে। টাকা না দেওয়ায় ভোটার স্লিপ আটকে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঠিক কী ঘটেছে?
পুরাতন বনগাঁর বাসিন্দা সুশীল বিশ্বাসের অভিযোগ, ৭০ নম্বর পার্টের বিএলও মৃন্ময় রায় তাঁদের পরিবারের তিন সদস্যের শুনানির জন্য মাথা পিছু ৩০ হাজার টাকা করে মোট ৯০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। সুশীলবাবুর দাবি, ভোটার তালিকায় নাম ওঠার পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর কাছে টাকা চাওয়া হচ্ছিল। এমনকি, কমিশনের দেওয়া ভোটার স্লিপ আটকে রেখেও টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। পরে উচ্চ মহলে অভিযোগ জানানোর পর তড়িঘড়ি তাঁর হাতে স্লিপ তুলে দেওয়া হয়।

তৃণমূল ও বিজেপির পাল্টাপাল্টি তোপ:
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা সুভাষ শীলের দাবি, শুধু সুশীল বিশ্বাস নন, প্রায় ৫০ জন বৈধ ভোটারের কাছ থেকে একইভাবে টাকা নিয়েছেন ওই বিএলও। অন্যদিকে, বিজেপির বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার কনভেনার প্রবীর রায়ের অভিযোগ, বিএলও-রা তৃণমূলের সঙ্গে যোগসাজশ করে সাধারণ মানুষের ভোট কাটছে এবং এখন তৃণমূলের পথেই ‘কাটমানি’ চাইছে।

কী সাফাই বিএলও-র?
সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএলও মৃন্ময় রায়। তাঁর দাবি, “স্লিপটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে দেরি হয়েছে, সকালে আমি নিজেই দিয়ে এসেছি।” তাঁর পাল্টা অভিযোগ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ষড়যন্ত্র করে তাঁর নামে মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছে।

ভোটার স্লিপ নিয়ে এই টানাপড়েন এবং ঘুষের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্বাচনের মুখে সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে বনগাঁর প্রশাসনিক মহলে অস্বস্তি বেড়েছে।