ফুটবল বিশ্বকাপে টাকার বৃষ্টি! আকাশছোঁয়া খরচের মাঝেই প্রাইজমানি বাড়িয়ে বড় চমক দিল ফিফা

আর মাত্র কয়েক মাসের অপেক্ষা। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার তিন দেশ— আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডায় বসতে চলেছে ফুটবল বিশ্বকাপের আসর। তবে এবারের বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, বরং ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল টুর্নামেন্ট হতে চলেছে। আর সেই বিপুল খরচ সামাল দিতে এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে স্বস্তি দিতে পুরস্কার মূল্যে বড়সড় বদল আনল ফিফা।

পুরস্কার মূল্যে ঐতিহাসিক বৃদ্ধি:
ভ্যাঙ্কুভারে আয়োজিত ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে এক যুগান্তকারী প্রস্তাব পাশ করা হয়েছে। গত বছর যেখানে পুরস্কার বাবদ ৭২৭ মিলিয়ন ডলারের কথা বলা হয়েছিল, এখন তা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, বর্তমান বাজারের অগ্নিমূল্য পরিস্থিতি এবং যাতায়াত ও আবাসনের খরচ মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত।

নতুন অংক ও অংশগ্রহণকারী দেশ:
২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেবে রেকর্ড ৪৮টি দেশ। আগের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিটি দেশের জন্য অন্তত ১০.৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ ছিল এবং চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫০ মিলিয়ন ডলার। তবে নয়া প্রস্তাবে এই অংক আরও বাড়তে চলেছে। এর পাশাপাশি ফিফার ‘ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের’ জন্য বরাদ্দ ৩ বিলিয়ন ডলারের তহবিলও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যা ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে।

কেন এই পরিবর্তন?
ফিফা কাউন্সিল বৈঠকে জানানো হয়েছে যে, আমেরিকা ও কানাডার মতো বড় দেশে যাতায়াত ও অপারেশনাল খরচ অনেক বেশি। সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল যে, পুরস্কার মূল্য না বাড়ালে অনেক দেশ লাভের বদলে ক্ষতির মুখে পড়বে। ফিফা বর্তমানে ইতিহাসের সবথেকে শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানে রয়েছে, তাই ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ফুটবলের প্রসারে এই বাড়তি অর্থ খরচ করা হবে।

টিকিটের দাম নিয়ে বিতর্ক:
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের টিকিটের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ফিফাকে। তবে সংস্থার দাবি, টিকিটের মাধ্যমে সংগৃহীত অতিরিক্ত অর্থ ফুটবলের উন্নয়ন এবং এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার কাজেই ব্যবহার করা হবে।

সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে শুধু বড় আয়োজন হিসেবেই নয়, বরং সর্বোচ্চ আর্থিক অবদানের নিরিখেও এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছে।