আমিষ রান্না নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড! রাগের মাথায় স্বামীকে কাস্তে দিয়ে কোপ স্ত্রীর, মুহূর্তেই সব শেষ

স্বামী-স্ত্রীর তুচ্ছ বিবাদ যে এমন মর্মান্তিক রক্তক্ষয়ী পরিণতি নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি কেউ। আমিষ খাবার রান্না করা নিয়ে বচসা, আর তার জেরেই স্বামীকে কাস্তে দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। তেলেঙ্গানার কামারেড্ডি জেলার গোসঙ্গী কলোনির এই ঘটনায় স্তব্ধ গোটা এলাকা।

ঘটনার সূত্রপাত:
মৃত যুবকের নাম কোদান্দা শিবাজী (৩০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিবাজী ও তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মীর মধ্যে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে নিত্যদিন অশান্তি লেগেই থাকত। কখনও আর্থিক অনটন, আবার কখনও ঘরের কাজ— ঝগড়া গড়িয়ে যেত হাতাহাতিতে। কিন্তু গত শনিবার রাতের বিবাদ ছাপিয়ে গেল সব সীমা।

আমিষ রান্নাই কি কাল হলো?
পুলিশ ও প্রতিবেশী সূত্রে খবর, শনিবার রাতে কাজ থেকে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে আমিষ কোনো পদ রান্না করার আবদার করেন শিবাজী। কিন্তু লক্ষ্মী তাতে রাজি ছিলেন না। এই নিয়েই শুরু হয় তীব্র কথা কাটাকাটি। বচসা চলাকালীন আচমকাই মেজাজ হারান লক্ষ্মী। ঘর থেকে একটি ধারালো কাস্তে এনে সরাসরি শিবাজীর ঘাড় ও গলায় কোপ বসাতে শুরু করেন তিনি।

অনাথ হলো দুই একরত্তি:
রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শিবাজী। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। সবথেকে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে দম্পতির দুই ও এক বছর বয়সী দুই সন্তানের চোখের সামনে। চোখের নিমেষে পিতৃহারা হলো দুই শিশু, আর মা এখন শ্রীঘরে।

পুলিশি তৎপরতা:
ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ পৌঁছে শিবাজীর নিথর দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত স্ত্রী লক্ষ্মীকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়েছে। তুচ্ছ খাবারের আবদার কীভাবে একটি সাজানো সংসার ছারখার করে দিল, তা ভেবেই কুল পাচ্ছেন না তদন্তকারীরা।