পকেটে টান পড়ার ভয়? পরিস্থিতি সামাল দিতে ২.৫ লক্ষ কোটির মেগা মাস্টারস্ট্রোক মোদি সরকারের!

আমেরিকা ও ইরান সংঘাতের মেঘ ঘনীভূত হতেই টালমাটাল বিশ্ব বাণিজ্য। যুদ্ধের আঁচ এসে লেগেছে ভারতীয় অর্থনীতিতেও। এই চরম সংকটকালে দেশের বাণিজ্যিক ভিত শক্ত রাখতে বড়সড় আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে চলেছে মোদি সরকার। সূত্রের খবর, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলিকে অক্সিজেন দিতে ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার একটি বিশেষ ঋণ প্রকল্পের নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে।

✈️ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বিমান পরিষেবায়

চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম। ধুঁকতে থাকা বিমান পরিষেবা ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করতে এই প্যাকেজে প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকার বিশেষ সংস্থান রাখা হচ্ছে।

  • প্রতিটি সংস্থা সর্বোচ্চ ১,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে।

  • ঋণের মেয়াদ নির্ধারিত হয়েছে ৫ বছর

  • সবচেয়ে বড় স্বস্তি: বর্তমান অনিশ্চয়তার বাজারে ব্যাঙ্কগুলি ঋণ দিতে অনীহা দেখালেও, কেন্দ্র জানিয়েছে এই ঋণের ৯০ শতাংশ গ্যারান্টি সরকার নিজেই নেবে

বিপদে পাশে দাঁড়ানোর এই মডেলটি মূলত ২০২০ সালের করোনা পরিস্থিতির সেই বিখ্যাত ‘ইসিএলজিএস’ (ECLGS) প্রকল্পের আদলে তৈরি।

📉 শেয়ার বাজারে ধস ও শিল্পক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ

যুদ্ধ এবং তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কায় গত মার্চ থেকেই ভারতীয় শেয়ার বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে। প্রায় ৪০০-র বেশি নামী সংস্থার শেয়ারের দাম একধাক্কায় অনেকটা পড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে সংকটে পড়েছে:

  1. তেল ও গ্যাস শিল্প

  2. অটোমোবাইল (গাড়ি) সেক্টর

  3. বস্ত্রশিল্প (Textile)

  4. ব্যাঙ্ক ও বিমা সংস্থা

🗺️ কেন চিন্তায় দিল্লি? নজরে সেই ‘হরমুজ’

বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয় হরমুজ প্রণালীকে। বর্তমানে এই জলপথ অবরুদ্ধ হওয়ায় অশোধিত তেল আমদানি থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, মধ্যস্থতার জন্য পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। ভারত অত্যন্ত নিবিড়ভাবে এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। কারণ, হরমুজ দিয়ে তেল আসা বন্ধ হলে বিমানের জ্বালানি থেকে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।

ভারতের এই মেগা প্যাকেজ কি পারবে বিশ্বযুদ্ধের অর্থনৈতিক মন্দা রুখতে? নজর রাখছে গোটা দেশ।

Samrat Das
  • Samrat Das