‘সংবিধানের কোন ধারায় এই আর্জি?’—আইনজীবীকে প্রশ্ন প্রধান বিচারপতির, বড় জয় বিরোধী দলনেতার!

হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে আইনি লড়াইয়ে বড়সড় জয় পেলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর প্রার্থীপদ বাতিলের দাবি জানিয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলা (PIL) সরাসরি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের এই রায়ে বিজেপির অন্দরে এখন স্বস্তির হাওয়া, অন্যদিকে ধাক্কা খেল মামলাকারী পক্ষ।

⚖️ আদালতে কেন টিকল না মামলা?

সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, গত ৩ এপ্রিল ভবানীপুর ও মেদিনীপুরের জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্য করেছেন এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষতার পতন’ চেয়ে সংবিধানের অবমাননা করেছেন। এই যুক্তিতেই তাঁর নন্দীগ্রামের প্রার্থিতা বাতিলের আর্জি জানানো হয়।

তবে শুনানির শুরুতেই পিছু হঠতে হয় মামলাকারী পক্ষকে। আদালত সাফ জানতে চায়— সংবিধানের ঠিক কোন ধারা অনুযায়ী একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করার আবেদন জানানো হচ্ছে? এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি আইনজীবীরা।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: > “সংবিধানের কোনো সুনির্দিষ্ট ধারা ছাড়া এমন গুরুতর আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার জন্য এভাবে আদালতের দরজায় আসা যায় না।”

🔥 রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বনাম আইনি জয়

এই রায়ের পর স্বভাবতই চড়া সুরে আক্রমণ শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতাদের দাবি, তৃণমূলের ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ আবারও মুখ থুবড়ে পড়ল। শুভেন্দু অধিকারী নিজে এই মামলাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, “বাংলার মানুষের জাগরণ দেখে ভয় পেয়েছে কিছু মহল। নন্দীগ্রামের মানুষই এর যোগ্য জবাব দেবেন।”

🔍 বিশ্লেষকদের মত

রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে বিরোধী নেতাদের আইনি মারপ্যাঁচে ব্যস্ত রাখার কৌশল নতুন নয়। তবে আজ কলকাতা হাইকোর্ট যেভাবে আইনের কঠোরতা বজায় রেখে মামলাটি খারিজ করল, তাতে প্রমাণিত হলো যে কেবল রাজনৈতিক অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচনী লড়াইয়ে আদালতকে হাতিয়ার করা সহজ নয়।

যদিও মামলাকারী পক্ষ হাল ছাড়তে নারাজ। সুপ্রিম কোর্ট বা উচ্চতর আদালতে যাওয়ার পথ খোলা রাখছেন তাঁরা। তবে আপাতত নন্দীগ্রামের লড়াইয়ে শুভেন্দুর পথে আর কোনো আইনি কাঁটা রইল না।