“বিয়ের আগে সহবাস কেন?” ১৮ বছরের বিধবা তরুণীর ধর্ষণ মামলায় বিতর্কিত মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির

“বিয়ের আগে কাউকে বিশ্বাস করবেন না”— আবারও লিভ-ইন বা একত্রবাস নিয়ে বিতর্কিত এবং কড়া মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি. ভি. নাগরত্ন। সোমবার ১৮ বছর বয়সি এক যুবতীর দায়ের করা যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ মামলার শুনানি চলাকালীন এই মন্তব্য করেন তিনি। শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নিয়ে ইতিমধ্য়েই নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: অভিযোগকারীনী ওই তরুণী মাত্র ১৮ বছর বয়সে স্বামীকে হারিয়েছেন। এরপর তিনি এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে সহবাস শুরু করেন। তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। পরে ওই তরুণী জানতে পারেন যে যুবকটি বিবাহিত। যুবকটি বিয়ে করতে অস্বীকার করলে তরুণী আদালতের দ্বারস্থ হন।
বিচারপতির সপাট প্রশ্ন: মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি নাগরত্ন বলেন, “বিয়ের আগে একত্রবাস করার প্রয়োজন কী? বছরের পর বছর একসঙ্গে থাকার পর একে অপরের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ আনেন কেন?” যদিও তিনি নিজেই উল্লেখ করেন যে, এমন কথা বললে অনেকেই মনে করেন আদালত নির্যাতিতাকেই দোষী সাব্যস্ত করছে।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি নাগরত্ন ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞার বেঞ্চ এই মামলায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেছে:
-
সম্মতি বনাম অপরাধ: পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্কের পর যদি কেউ সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যেতে চান, তবে সেটিকে ‘ফৌজদারি অপরাধ’ বা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
-
ক্ষতিপূরণ: তরুণী চাইলে ওই যুবকের থেকে খোরপোশ বা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন, কিন্তু ধর্ষণের মামলা ধোপে টিকবে না।
-
সতর্কতা: বিচারপতির মতে, বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুবক-যুবতীদের অনেক বেশি সতর্ক হওয়া উচিত।
পুরনো বিতর্কের রেশ: এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও একই ধরনের একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তুলেছিল— কেন এক তরুণী যুবকের সঙ্গে দুবাই গিয়েছিলেন? সেবারও আদালত বলেছিল, “আমাদের সেকেলে মনে হতে পারে, কিন্তু বিয়ের আগে সতর্ক থাকা জরুরি।”
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ লিভ-ইন সম্পর্কের আইনি জটিলতা এবং নৈতিকতার সংঘাতকে আবারও সামনে নিয়ে এল।