“বাংলার প্রচার আমার কাছে তীর্থযাত্রা!” ভোট শেষের আগে মোদির অডিও বার্তায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের শেষ লগ্নে এক নজিরবিহীন পথে হাঁটলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৪টি জনসভা ও অসংখ্য রোড-শো শেষ করার পর সোমবার বিকেলে বাংলার ভোটারদের উদ্দেশে সাত মিনিটের একটি বিশেষ অডিও বার্তা পাঠান তিনি। যেখানে বাংলার নির্বাচনী প্রচারকে নিছক রাজনীতি নয়, বরং ‘তীর্থযাত্রা’র সঙ্গে তুলনা করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ক্লান্তিহীন মোদি ও মা কালীর শক্তি: তীব্র দাবদাহে একের পর এক সভা করেও তিনি কেন ক্লান্ত নন, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মোদি বলেন, “এই গরমে এত মিছিলের পরও আমি ক্লান্তি অনুভব করছি না। মা কালীর ভক্তদের মধ্যে যখন গিয়েছি, মা কালী নিজেই আমায় শক্তি দিয়েছেন। আমার কাছে এই প্রচার ছিল তীর্থযাত্রায় যোগ দেওয়ার মতো অনুভূতি।” অযোধ্যার রামমন্দির উদ্বোধনের আগের ১১ দিনের ব্রতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, এবার তিনি শক্তি পেয়েছেন ‘ঈশ্বররূপী’ জনগণের আশীর্বাদে।

পরিবর্তন এখন সঙ্কল্প: অডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, এবারের নির্বাচন কেবল জয়-পরাজয়ের নয়, এটি বাংলার মানুষের আত্মসম্মানের লড়াই। তিনি বলেন, “বাংলার কৃষক, শ্রমিক, কন্যা ও যুবসমাজ আজ পরিবর্তন চায়। আমি প্রতিটি সভায় গিয়ে বুঝেছি, পরিবর্তন এখন বাংলার মানুষের সঙ্কল্প। সাধারণ মানুষ বলছেন— অনেক ভয় দেখিয়েছেন, আর নয়!”

মোদির গ্যারান্টি ও শপথের আমন্ত্রণ: উন্নত বাংলা নির্মাণকে আবারও ‘মোদির গ্যারান্টি’ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। আত্মবিশ্বাসের সুরে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, “আমি আজ আপনাদের কথা দিয়ে রাখছি, বাংলায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আমরা একসঙ্গে পালন করব। এটা কেবল আমার বিশ্বাস নয়, বাংলার মানুষের মনের কথা।”

ভোটদানের আহ্বান: প্রথম দফার ভোটদানকে ‘ইতিহাস’ বলে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী ২৯ এপ্রিলের ভোটে রেকর্ড সংখ্যক মানুষকে বুথে যাওয়ার অনুরোধ জানান। তাঁর মতে, গণতন্ত্রের পবিত্র মন্দিরে বিজয়ের পতাকা ওড়ানোর সুযোগ এখন বাঙালির হাতের মুঠোয়।

প্রচার শেষে প্রধানমন্ত্রীর এই আবেগী অডিও বার্তা ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।

Samrat Das
  • Samrat Das