“বিজেপির নির্দেশে আমাদের মারধর করা হয়েছে!” গাজিপুরের ঘটনায় সরাসরি যোগী সরকারকে তোপ অখিলেশের

গাজিপুরের নির্যাতিতা তরুণীর পরিবারকে কেন্দ্র করে উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাত শুরু হলো। সমাজবাদী পার্টির প্রতিনিধিদলকে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন অখিলেশ যাদব। তাঁর সাফ অভিযোগ, বিজেপি নিজেরা যখন কিছু করতে পারছে না, তখন অন্যের কাঁধে বন্দুক রেখে রাজনীতি করছে।

“বোন-মেয়েদের ওপর অত্যাচার বেড়েছে”:
বিজেপি শাসনামলে নারী নিরাপত্তার কঙ্কালসার দশা তুলে ধরে অখিলেশ বলেন,

“বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যে নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন চরমে পৌঁছেছে। গাজিপুরের মেয়েটিকে যে অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল, সেই ছবি দেখলে শিউরে উঠতে হয়। পরিসংখ্যান বলছে, উত্তর প্রদেশ এখন নারী ও মেয়েদের জন্য সবচেয়ে অসুরক্ষিত জায়গা।”

ময়নাতদন্ত নিয়ে সন্দেহ ও আর্থিক সাহায্য:
নির্যাতিতার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে পরিবারের তোলা সন্দেহে সায় দিয়েছেন অখিলেশ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মৃতদেহ উদ্ধারের স্থানে যেখানে দু’ফুট জলও ছিল না, সেখানে প্রশাসন ঠিক কী লুকাতে চাইছে? এই কঠিন সময়ে নির্যাতিতার পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এসপি প্রধান।

গাজিপুরে নতুন প্রতিনিধিদল:
অখিলেশ জানান, মঙ্গলবার সমাজবাদী পার্টির একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদল (যার নেতৃত্বে থাকবেন রীতা বিশ্বকর্মা ও দলের বিধায়করা) পুনরায় গাজিপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, আগামী ২৯শে এপ্রিল অখিলেশ যাদব স্বয়ং ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারেন।

পেট্রোল-ডিজেলের দাম ও বিজেপির কৌশল:
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন মিটলেই দেশে জ্বালানির দাম বাড়বে বলে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছেন তিনি। পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, বিজেপি চায় না সমাজবাদী পার্টি ‘পিডিএ’ (PDA)-র পাশে দাঁড়াক, তাই প্রশাসনের মাধ্যমে তাঁদের লোকজনকে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

অখিলেশ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের প্রতিনিধিদলকে যেতে দিন, নইলে আমরা রাজপথেই আছি। পরিবার সন্দেহ প্রকাশ করলে পুনরায় তদন্ত হওয়া উচিত।”