বিয়ের মণ্ডপেই রণক্ষেত্র! কনের বান্ধবীদের দেখে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য বরের বন্ধুদের, তারপর যা ঘটল…

উত্তরপ্রদেশের বেরেলি জেলার বাহেরি শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে শুরু হয়েছিল হইচই। বরের বন্ধুদের অসভ্যতা আর কনের কড়া জেদ—সব মিলিয়ে আনন্দ অনুষ্ঠান মুহূর্তেই যেন দাঙ্গার রূপ নিতে চলেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কনের লড়াইয়েই মাথা নত করতে বাধ্য হলো বরপক্ষ।
ঘটনার সূত্রপাত:
রবিবার রাতে বাহেরির একটি বাড়িতে বিয়ের উৎসব চলছিল পুরোদমে। বরযাত্রীরা ব্যান্ডের তালে নাচছিলেন, চারদিকে খুশির মেজাজ। কিন্তু ছন্দপতন ঘটে মালাবদলের সময়। কনে যখন হাসিমুখে তাঁর বান্ধবীদের নিয়ে স্টেজে উঠছিলেন, ঠিক তখনই বরের কিছু বন্ধু কনের বান্ধবীদের উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করে বসেন।
কনের ‘রুদ্রমূর্তি’ ও বিয়ে বয়কট:
নিজের প্রিয় বন্ধুদের অপমান সইতে পারেননি কনে। সবার সামনে মালাবদল করতে সরাসরি অস্বীকার করেন তিনি। মণ্ডপ ছেড়ে সোজা ঘরে গিয়ে দোরগোড়া বন্ধ করে দেন। তাঁর সাফ কথা ছিল—“বিয়ের প্রথম দিনেই যারা আমার বন্ধুদের সম্মান দিতে পারে না, তাদের পরিবারে আমি যাব না।” কনের এই দৃঢ়তায় থমকে যায় বিয়ের অনুষ্ঠান।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলল রুদ্ধদ্বার বৈঠক:
পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামেন দুই পরিবারের প্রবীণরা। বরের পরিবার বারবার কনেকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি তাঁর দাবিতে অনড় ছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, দোষী বন্ধুদের সবার সামনে ক্ষমা চাইতে হবে।
কান ধরে ক্ষমা ও শুভ পরিণয়:
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ভয়ে বরের সেই বন্ধুরা সবার সামনে কান ধরে কনে ও তাঁর বান্ধবীদের কাছে ক্ষমা চান। বন্ধুদের এই ‘শিক্ষা’ পাওয়ার পর কনের রাগ কমে। এরপর তিনি পুনরায় মঞ্চে ফেরেন এবং মালাবদলের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
পরদিন হাসি মুখেই শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন কনে। সেখানে তাঁকে জমকালো অভ্যর্থনা জানানো হয়। তবে বেরেলির এই ঘটনা বুঝিয়ে দিল, আধুনিক কনেরা আর মুখ বুজে অপমান সহ্য করতে রাজি নন।