২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকেই ‘লকড’ হাওড়া! বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, কড়া নজরদারি প্রশাসনের

দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে আগেভাগেই কোমর বেঁধে নামল প্রশাসন। হাওড়া জেলাজুড়ে এবার জারি করা হলো ১৬৩ ধারা (যা আগে ১৪৪ ধারা নামে পরিচিত ছিল)। আগামী ২৯ এপ্রিল হাওড়ার একাধিক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। তার আগে কোনওরকম অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা রুখতে ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকেই জেলাজুড়ে বলবৎ হচ্ছে একগুচ্ছ কড়া নিয়ম।

কী কী বিধিনিষেধ থাকছে?
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাওড়ায় নিম্নলিখিত কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে:

প্রচার বন্ধ: সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে কোনও রাজনৈতিক দল সভা, পদযাত্রা বা রয়্যালি করতে পারবে না। মাইক ব্যবহারের ওপরও আনা হয়েছে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।

বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ: সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার নন এমন কোনও রাজনৈতিক কর্মী বা ব্যক্তি ওই এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। হোটেল ও লজগুলিতেও চলবে তল্লাশি।

জমায়েতে বাধা: পাঁচজন বা তার বেশি মানুষ একসঙ্গে জমায়েত হতে পারবেন না। এমনকি পোস্টার বা ব্যানারের মাধ্যমে কোনওরকম উস্কানিমূলক বার্তা ছড়ানো হলে তৎক্ষণাৎ কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুথ ঘিরে বিশেষ নজরদারি
ভোটের দিন বুথগুলিকে ঘিরে গড়ে তোলা হচ্ছে দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয়। ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও রাজনৈতিক প্রচার বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেবে কমিশন। এছাড়া অস্ত্রশস্ত্র বা বিস্ফোরক বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জরুরি পরিষেবা স্বাভাবিক
কড়া বিধিনিষেধ জারি হলেও সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। জরুরি পরিষেবা যেমন— অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধের দোকান এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ এই নিয়মের আওতার বাইরে থাকবে।

প্রশাসনের বার্তা: “অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটদান নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কেউ যদি প্ররোচনা দেওয়ার চেষ্টা করে বা নিয়ম লঙ্ঘন করে, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

ইতিমধ্যেই জেলাজুড়ে পুলিশি টহলদারি এবং নাকা চেকিং বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে বুথে গিয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য সবরকম প্রস্তুতি সেরে রেখেছে হাওড়া জেলা প্রশাসন।