মহুয়া রায়চৌধুরীর রহস্যমৃত্যুর নেপথ্যে কি বাংলাদেশের ছবির হাতছানি? বান্ধবীর চরিত্রে মুখ খুললেন রিমঝিম

আশি দশকের সুপারস্টার মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবন যেন এক ট্র্যাজিক সিনেমা। সেই জীবনকেই এবার সেলুলয়েডে বন্দি করছেন পরিচালক রাজদীপ ঘোষ ও প্রযোজক রানা সরকার। ছবিতে নামভূমিকায় রয়েছেন অঙ্কিতা মল্লিক। তবে সিনেমার গল্পের চেয়েও বেশি চর্চায় উঠে এসেছে মহুয়ার প্রিয় বান্ধবী রত্না ঘোষালের চরিত্রটি, যাতে অভিনয় করছেন রিমঝিম মিত্র।
রত্নার দাবি ও বিতর্কিত ইতিহাস
মহুয়া রায়চৌধুরীর ছায়াসঙ্গী ছিলেন রত্না ঘোষাল। মহুয়ার মৃত্যুর পর রত্না এমন কিছু দাবি করেছিলেন, যা আজও ভক্তদের মনে কাঁটার মতো বেঁধে। রত্না ঘোষাল এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন:
মহুয়া ও তাঁর স্বামী দুজনেই মদের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকতেন।
এমনকি নিজের ২ বছরের শিশুকেও নাকি চামচ করে মদ খাওয়াতেন মহুয়া!
বাংলাদেশের একটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য মহুয়া এতটাই মরিয়া ছিলেন যে, ভিসা না পেয়ে তিনি চরম হতাশায় ভুগছিলেন।
রহস্যের নাম কি ‘বাংলাদেশ’?
মহুয়ার রহস্যমৃত্যুর পরই নাকি তাঁর বাংলাদেশের ভিসা পাওয়ার জটিলতা কেটে গিয়েছিল। রত্নার দাবি ছিল, সেই খবর তাঁর কাছেই এসেছিল। কিন্তু কেন মহুয়া এমন হাতাশায় ডুবেছিলেন? মদের নেশাই কি কাল হয়েছিল নাকি নেপথ্যে ছিল অন্য কোনও বড় কারণ? এই প্রশ্নগুলোই উসকে দিচ্ছে নতুন এই বায়োপিক।
কী বলছেন পর্দার ‘রত্না’ রিমঝিম?
টেলিভিশনে নিয়মিত মুখ হলেও সিনেমায় কেন কম দেখা যায়? রিমঝিম জানালেন, ধারাবাহিকের ব্যস্ততার কারণেই বড় পর্দায় সময় দেওয়া কঠিন হয়। তবে এই বায়োপিকটি তাঁর কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রত্না ঘোষালকে কি ব্যক্তিগতভাবে ফোন করবেন রিমঝিম? অভিনেত্রীর স্পষ্ট জবাব:
“না, আমি সেটা করছি না। এই ছবিতে চরিত্রগুলো সবই বাস্তব থেকে অনুপ্রাণিত। পরিচালক এবং চিত্রনাট্য যেভাবে চাইছেন, আমি সেভাবেই লেন্সের সামনে দাঁড়াব।”
বাংলার স্বর্ণযুগের এক নক্ষত্রের পতন আজও রহস্যে মোড়া। রানা সরকারের এই প্রোডাকশন সেই সত্যকে কতটা সাহসীকতার সঙ্গে তুলে ধরবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা টলিপাড়া।