“লক্ষ লক্ষ টাকার আয় ছেড়ে মানুষের জন্য লড়ছেন!” রাজীবকে নিয়ে হরিণঘাটায় আবেগে ভাসলেন অভিষেক

বিধানসভা নির্বাচনের শেষবেলার প্রচারে আজ হরিণঘাটায় কার্যত মেগা শো করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হরিণঘাটার ৪ নম্বর গেট প্লে গ্রাউন্ডে দাঁড়িয়ে দলের প্রার্থী ডাঃ রাজীব বিশ্বাসের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে অভিষেকের গলায় শোনা গেল এক বিরল ব্যক্তিগত আবেগ।

“লাখ লাখ টাকার ডাক্তারী ছেড়ে মানুষের সেবায়”
প্রার্থী রাজীব বিশ্বাসের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে অভিষেক বলেন, “রাজীব মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করতে পারতেন। ডাক্তারি করে বিলাসবহুল জীবন কাটানো তাঁর জন্য সহজ ছিল। কিন্তু তিনি সবকিছু ছেড়ে এই মাটির ছেলে হয়ে আপনাদের সর্বক্ষণের কর্মী হিসেবে কাজ করতে এসেছেন। এমন একজনকে জেতানো আপনাদের দায়িত্ব।” তিনি আরও যোগ করেন, ২০২৪ সালে তাঁর সংসদীয় এলাকায় ‘সেবাশ্রয়’ মডেল রূপায়ণে রাজীবের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

হরিণঘাটায় ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পের প্রতিশ্রুতি
ডায়মন্ড হারবারের উন্নয়ন মডেলকে হরিণঘাটায় নিয়ে আসার অঙ্গীকার করে অভিষেক ঘোষণা করেন, “রাজীব জিতলে ২০২৬-এর ডিসেম্বর বা ২০২৭-এর জানুয়ারিতে এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ‘সেবাশ্রয় ক্যাম্প’ করা হবে। মানুষের যা যা দাবি বা সমস্যা রয়েছে, তা সমাধানের জন্য আমার যা সামর্থ্য, আমি সবটুকু দিয়ে রাজীবকে সহযোগিতা করব।”

অসীম সরকারকে তোপ ও ‘সর্ষে ফুল’ কটাক্ষ
এদিন বিরোধী প্রার্থী অসীম সরকার ও বিজেপিকে কড়া আক্রমণ করেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। তাঁর হুঁশিয়ারি:

“বিজেপি জিতলে আপনার চোখে জল আসবে, আর তৃণমূল জিতলে মুখে হাসি ফুটবে।”

৪ তারিখ ভোটবাক্স খুললে তৃণমূলের জয় এমন হবে যে, “অসীম সরকাররা যেন চোখে পদ্মফুলের বদলে সর্ষে ফুল দেখেন।” ### নিজের কেন্দ্র ছেড়ে কেন হরিণঘাটায়?
সাধারণত প্রচারের শেষ দিনে অভিষেক নিজের কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের বাইরে যান না। তবে এবার সেই প্রথা ভেঙে হরিণঘাটায় আসার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “রাজীব আমার পরিবারের একজন। ওঁর লড়াইয়ে আমি পাশে না থাকলে আমার প্রচার অসম্পূর্ণ থেকে যেত।”

অবাধ উন্নয়নের গ্যারান্টি দিয়ে অভিষেক এদিন ভোটারদের জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে বিজেপির ‘জমানত বাজেয়াপ্ত’ করার ডাক দেন। এখন দেখার, অভিষেকের এই ‘পারিবারিক’ আবেদন হরিণঘাটার জনতাকে কতটা প্রভাবিত করে।