ভোটের বলি স্কুল শিক্ষা! খাস কলকাতায় মাঝরাস্তায় পড়ুয়াদের বাস থেকে নামিয়ে দিচ্ছে পুলিশ? তুঙ্গে বিতর্ক!

লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফা মিটতেই বিপত্তি। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে খাস কলকাতায় বড়সড় সংকটের মুখে স্কুল শিক্ষা। একদিকে শহরের নামী স্কুলগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ডেরা, অন্যদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে জোর করে পুলকার ও স্কুল বাস তুলে নেওয়ার অভিযোগ। সব মিলিয়ে আগামী ৪ মে পর্যন্ত কার্যত স্তব্ধ হওয়ার জোগাড় পড়াশোনা।

মাঝরাস্তায় পড়ুয়াদের নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ!
অভিযোগ উঠেছে মারাত্মক। অভিভাবকদের দাবি, খাস কলকাতায় স্কুলের বাস থামিয়ে পড়ুয়াদের নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জোর করে সেই গাড়িগুলো নির্বাচনের কাজে রিকুইজিশন বা বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে পুলকার ও স্কুল বাসের মালিকদের ইউনিয়নগুলো নিজেদের নিরাপত্তা এবং ক্ষোভ থেকে পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

১০ দিন মিলবে না পুলকার: ভোগান্তির চরম সীমায় অভিভাবকরা
পুলকার অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে খবর, ২৭ এপ্রিল থেকে গাড়িগুলো ভোটের কাজে ব্যবহারের জন্য নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গাড়ি ফেরত পেতে পেতে ২৯ বা ৩০ তারিখ হয়ে যাবে। এর মাঝে শনি ও রবিবার পড়ে যাওয়ায় এবং ৪ মে ভোটের বিশেষ পরিস্থিতির কারণে আপাতত ১০ দিন পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয়।

এক নজরে কেন ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা:

স্কুলে বাহিনীর ডেরা: শহরের অনেক স্কুলেই কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকায় ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে।

পুলকারের অভাব: শুক্রবার থেকেই অনেক জায়গায় পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সন্তানকে কীভাবে স্কুলে পাঠাবেন, তা নিয়ে দিশেহারা বাবা-মায়েরা।

পুলিশি চাপ: গাড়ি মালিকদের দাবি, পুলিশি চাপের মুখে তাঁরা ২৭ তারিখ থেকে ৪ মে পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।

কর্তৃপক্ষের নিরুত্তর ভূমিকা
এই চরম বিশৃঙ্খলার মাঝে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছেও কোনো সদুত্তর নেই। অনেক স্কুল অনলাইন ক্লাসের কথা ভাবলেও, কেন্দ্রীয় বাহিনীর অবস্থান ও যাতায়াত সমস্যার কারণে তাও কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ভোট উৎসবের চক্করে কি তবে এভাবেই বলি হতে হবে তিলোত্তমার শিক্ষাব্যবস্থাকে? প্রশ্ন তুলছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।