“বন্দুক-গুণ্ডা পাঠিয়েছে, দিদি কিন্তু মরে যায়নি!” শেষ রবিবারের প্রচারে বিস্ফোরক মমতা

ভোটের আগে শেষ রবিবার। সাতসকালেই ল্যান্ডডাউন থেকে কালীঘাট ফায়ার স্টেশন পর্যন্ত পদযাত্রায় মেজাজ দেখালেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যামাক স্ট্রিটের জনসংযোগ সেরে নিজের গড় ভবানীপুরে পা রাখতেই মেজাজ আরও চড়ল তাঁর। শনিবার চক্রবেড়িয়ায় মাইক বিভ্রাটের জেরে সভামঞ্চ ছাড়লেও, রবিবার সেখানে ফিরেই বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন মমতা।
“অ্যারেস্ট করার সাহস কোত্থেকে পায়?”
ভবানীপুরের সভা থেকে প্রশাসনের একাংশ এবং বিজেপির বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ এনে মমতা বলেন:
“বন্দুক পাঠিয়েছে, গুণ্ডা পাঠিয়েছে। আর লোকাল থানার পুলিশকে বলছে ওকে অ্যারেস্ট করো! কী করে করবে? কোর্টের অর্ডার আছে। ৩০ মে পর্যন্ত স্টে অর্ডার রয়েছে, গ্রেফতার করা যাবে না।”
একইসঙ্গে অতিসক্রিয় পুলিশ অফিসারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “পাপ বাপকেও ছাড়ে না। যাঁরা এখন অন্যায়ভাবে অ্যারেস্ট করছেন, ভবিষ্যতে নিজেরা অ্যারেস্ট হওয়ার কথা চিন্তা করবেন।”
সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও টাকা ঢোকানোর অভিযোগ
কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়ে তৃণমূলনেত্রী দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন তাঁর পছন্দের আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের সীমানা অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। মমতার অভিযোগ:
ওড়িশা ও বিহার সীমান্ত: এই দুই রাজ্যের সীমানা ব্যবহার করে বাংলায় দেদার বন্দুক ও টাকা ঢুকছে।
ড্রাগস ও ক্যাশ: নাকা চেকিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিজেপি কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঢুকছে এবং উল্টে তৃণমূলকে চোর বলছে।
থানায় মুচলেকা নিয়ে সতর্কবার্তা
কালীঘাট ও ভবানীপুর থানার পুলিশ কয়েকজন কর্মীকে ডেকে পাঠিয়েছে বলে দাবি করেন মমতা। দলীয় কর্মীদের আশ্বস্ত করে তাঁর কড়া নির্দেশ:
“পুলিশ থানায় ডেকে মুচলেকা দিতে বললে দেবেন না। মনে রাখবেন দিদি লড়াই করতে জানে।”
ভোটের আগে শেষবেলার এই প্রচার যুদ্ধে মমতার ‘ভিকটিম কার্ড’ এবং ‘আক্রমণাত্মক মেজাজ’ দুই-ই স্পষ্ট। এখন দেখার, ভবানীপুরের এই উত্তাপ ইভিএম বক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।