ভবানীপুরে মমতার ৮৭ মিনিটের ‘ম্যারাথন’ পদযাত্রা! অলিগলিতে জনস্রোত, নাড়িয়ে দিলেন প্রতিপক্ষের ভিত?

ভবানীপুর— বাংলার রাজনীতির সেই ‘হটসিট’, যেদিকে এখন তাকিয়ে গোটা দেশ। ২৯ এপ্রিলের ফাইনাল লড়াইয়ের আগে রবিবার নিজের খাসতালুকে কার্যত শক্তির আস্ফালন দেখালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেল ৪টে ১৫ থেকে ৫টা ৪২— ঘড়ির কাঁটা ধরে টানা ৮৭ মিনিট ভবানীপুরের অলিগলি চষে বেড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী।
চক্রবেড়িয়া থেকে কালীঘাট: জনসমুদ্রে মমতা রবিবার বিকেল ৪টে ১৫ মিনিটে চক্রবেড়িয়া মোড় থেকে পদযাত্রা শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পায়ে হেঁটে কখনও মেন রোড, কখনও সরু গলি— মানুষের একদম ঘরে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। হরিশ মুখার্জি রোড থেকে কালীঘাট, প্রায় গোটা কেন্দ্রটিই পায়ে হেঁটে প্রদক্ষিণ করেন নেত্রী। রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাসি মুখে কথা বলা থেকে শুরু করে শিশুদের আদর— প্রচারে চেনা মেজাজেই দেখা গেল ‘ঘরের মেয়ে’ মমতাকে।
শুভেন্দুর সঙ্গে টক্কর ও শনিবারের সেই উত্তাপ শনিবারই ভবানীপুরে দুই প্রধান প্রতিপক্ষ মমতা ও শুভেন্দু অধিকারীর সভার সময় পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল। মমতার অভিযোগ ছিল, তাঁর সভার শব্দ গিলে নিতে বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে মাইকের আওয়াজ বাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটিয়ে রবিবার রাজপথে নেত্রীর এই ৮৭ মিনিটের পদযাত্রা তাঁর আত্মবিশ্বাসকেই পুনরায় প্রমাণ করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
কেন ভবানীপুর এত গুরুত্বপূর্ণ? ২০১১ সাল থেকে এই আসনটি মমতার দখলে থাকলেও, ২০২৬-এর নির্বাচনে এই কেন্দ্রকে পাখির চোখ করেছে বিজেপি।
-
মিশ্র ভোটব্যাঙ্ক: বাঙালি, গুজরাটি, মাড়োয়ারি ও শিখ সম্প্রদায়ের ভোট এখানে নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে।
-
প্রেস্টিজ ফাইট: মমতার কাছে এটি কলকাতার সিংহাসন ধরে রাখার লড়াই, অন্যদিকে ২০২১-এ নন্দীগ্রামে জেতার পর শুভেন্দুর লক্ষ্য এবার খোদ মমতার খাসমহল দখল করা।
কড়া নিরাপত্তায় মুড়েছে কেন্দ্র প্রচার শেষ হতে হাতে আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। তার আগে কলকাতা জুড়ে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। ভবানীপুর ও দক্ষিণ কলকাতা বেল্টে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী।