“কারেন্ট অফ করে চুরির ছক!” ক্যামাক স্ট্রিটের সভা থেকে দাঙ্গা ও মেশিন লুটের মারাত্মক আশঙ্কা নেত্রীর

দ্বিতীয় দফার মহারণের আগে বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন চ্যান্সারি লেভেলে। একদিকে যখন মোদী-শাহর ঝোড়ো প্রচার চলছে, ঠিক তখনই খাস কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিট থেকে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বিষ্ফোরক সব অভিযোগ আনলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ভোট চুরির জন্য এবার নাকি ‘অদ্ভুত’ সব কৌশল নিচ্ছে বিজেপি ও কমিশন!
ইভিএম লুটের ‘নতুন ফর্মুলা’!
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, ইভিএম দখল করার জন্য লোডশেডিং-এর সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের এখানে তো লোডশেডিং হয় না। কারেন্ট অফ করে, মুখোশ পরে, আর কম্বল মুড়ি দিয়ে ওরা ইভিএম লুট করতে যাচ্ছে। ওদের অন্য মতলব আছে, আপনারা একদম ফাঁদে পা দেবেন না।” ইভিএম পাহারা দেওয়ার জন্য কর্মীদের বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
পুলিশ ও প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে তোপ
রাজ্যে ভোটের আগে একাধিক পুলিশ আধিকারিক (OC) এবং জেলাশাসক (DM) বদল নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন নেত্রী। তাঁর সাফ কথা:
-
পুলিশের ভূমিকা: “এখানকার পুলিশদের কথা আর কী বলব! বিজেপি বেছে বেছে লোক নিয়ে এসেছে। ওরা আমাদের বিরুদ্ধেই শুধু অ্যাকশন নেয়।”
-
হুঁশিয়ারি: “মনে রাখবেন, ৪ তারিখের পর ওরা চলে যাবে, কিন্তু আপনারা এখানেই থেকে যাবেন।”
“প্রথম দফায় সেঞ্চুরি করেছি”
বিজেপির হার নিশ্চিত দাবি করে মমতা বলেন, “প্রথম দফায় আমরা সেঞ্চুরি করেছি, দ্বিতীয় দফায় আবার করব। বিজেপি ভয় পেয়েছে, আর ‘যো ডর গয়্যা, ও মর গয়্যা’। সেই ভয় থেকেই গুন্ডামি করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে এসেছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বিজেপি বাংলা ভাগ করতে চাইলেও তৃণমূল সবাইকে নিয়ে চলায় বিশ্বাসী।
GST ও কলকাতা নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ
রাজ্যের অর্থনৈতিক বঞ্চনা নিয়ে সরব হয়ে মমতা বলেন:
-
সাধারণ মানুষ রেস্তোরাঁয় যে জিএসটি (GST) দেন, সেই টাকা সরাসরি কেন্দ্রের ঘরে চলে যায়।
-
কলকাতা কর্পোরেশন এক পয়সাও ট্যাক্স বাড়ায়নি, বরং কলকাতাকে হেরিটেজ সিটি করতে ইউনেস্কোর সঙ্গে কাজ চলছে।
ভোটারদের প্রতি বার্তা: “নিজের ভোট নিজে দিন। ভোটার স্লিপ জেরক্স করে কাছে রেখে দিন যাতে এনআরসি (NRC) করতে না পারে।”